প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
গাজায় এবার যেন বর্বরতার সব সীমা অতিক্রম করেছে ইসরাইল। প্রিয়জনকে দাফন করে বাড়ি ফেরার পথে শোকার্ত মানুষদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার ফলে অন্তত ১২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।
যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুর বাস্তবতায় প্রতিদিনই ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি বাড়ছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে জানাজা ও দাফন শেষে কবরস্থান থেকে ফেরার পথে শোকার্ত মানুষের ওপর একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়। এই ঘটনাটি ব্যাপক হতাহতের সৃষ্টি করেছে। এর আগে একই এলাকায় দাফন শেষে ফেরার সময় আরও একটি হামলার ঘটনা ঘটে।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস, উত্তর গাজা এবং গাজা সিটিতে আলাদা হামলায় নারীসহ আরও বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এসব হামলার ঘটনার বিষয়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে, হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই এসব অভিযান চালানো হয়েছে। হামাস এই ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, এটি যুদ্ধবিরতির প্রকাশ্য ও পরিকল্পিত লঙ্ঘন, যা নেতানিয়াহু বাহিনীর আগ্রাসনের ফলে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
গাজা কর্তৃপক্ষের মতে, এই হামলার কারণে শুক্রবার ভোর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ১৩-এ দাঁড়িয়েছে এবং ৭২ ঘণ্টায় মোট নিহতের সংখ্যা ২৫ হয়েছে।
নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-আওদা হাসপাতাল এক বিবৃতিতে জানায়, আল-বালাতা বাজার এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের এক সমাবেশে ইসরাইলি হামলায় তারা আটজনের মৃতদেহ গ্রহণ করেছে এবং ২০ জন আহতকে চিকিৎসা দিতে হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আহমদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে জানাজার মিছিলের অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছেন, ইসরাইলি বাহিনীর হাতে নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজা চলাকালীন এই হামলা করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাটিতে বেশ কয়েকটি মৃতদেহ ও আহত ব্যক্তি পড়ে আছেন এবং তাদের পোশাক ও শরীর রক্তে ভেজা।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইল ক্রমাগত লঙ্ঘন করে চলছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইসরাইলি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ১,১২৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩,৬৪৩ জন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের গণহত্যামূলক সামরিক অভিযানে ৭৩,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭৩,০০০-এরও বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া, এই অঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে।
এদিকে গাজায় নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত করার দাবি করেছে ইসরাইল। দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, বর্তমানে উপত্যকার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ বলছে, গাজার সীমান্তজুড়ে তথাকথিত নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে দুটি ডিভিশন মোতায়েন রয়েছে।
হামলাসংক্রান্ত ঘটনাবলীর কারণে ক্রমাগত বাস্তুচ্যুতি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে বলে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানিয়েছেন, নানা বাধা সত্ত্বেও খাদ্য, কৃষি এবং শিক্ষা সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে আড়াই লাখের বেশি মানুষের কাছে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, গ্রীষ্মকালীন শিক্ষা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার শিশুর জন্য ৫,০০০-এরও বেশি শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। তবে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠবে, এই বিষয়ে সতর্ক করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন