প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
হরমুজ প্রণালীর পর এবার লোহিত সাগরেও জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা চালায়, তাহলে হুতিদের তেহরানের নির্দেশে বাব এল-মান্দেব প্রণালী বন্ধের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালী বন্ধের হুমকিও সামনে এসেছে। তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা চালায়, তবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীকে এই জলপথ বন্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে তেহরান।
সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের স্তরে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সেই বার্তাটি ইতোমধ্যে গোষ্ঠীটির কাছে পৌঁছে গেছে। তবে, এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা হুতি মুখপাত্র এখনো কোনো মন্তব্য করেননি।
গোষ্ঠীটির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি করছে, হুতিরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে, হোদেইদা উপকূল, এডেন উপসাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী। তারা বর্তমানে শুধু চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
জানা যাচ্ছে, প্রণালি বন্ধের সিদ্ধান্তে সরাসরি ভূমিকা রাখবেন ইয়েমেনে অবস্থিত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-আইআরজিসির প্রতিনিধিরা।
এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হুতি নেতা আবদুল মালিক আল-হুতি। টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি জানিয়েছেন, সৌদি আরব যদি সংঘাতে আরও জড়িয়ে পড়ে, তাহলে দেশটির তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হয়ে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী এর মধ্যেই অচল হয়ে গেছে, এবং যদি বাব এল-মান্দেবেও অস্থিরতা তৈরি হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ একই সাথে ঝুঁকিতে পড়বে। লোহিত সাগরের এই রুট দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে, মান্দেবে হামলা বা জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে, তেলের বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা আসতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন