প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রেনেসাঁ যুগের মহান শিল্পী ও স্থপতি মাইকেলেঞ্জেলোর নকশায় নির্মিত শত শত সিংহভাস্কর্য, যা দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে সংরক্ষণ ও সংস্কার কাজের মধ্যে ছিল, অবশেষে তাদের শতাব্দীপ্রাচীন শৈল্পিক জৌলুস ফিরে পেয়েছে। ইতালির রাজধানী রোমের ঐতিহাসিক পালাজ্জো ফারনেজে প্রাসাদে অবস্থিত এইসব ভাস্কর্য বর্তমানে ফ্রান্সের দূতাবাস ভবনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।
রোম থেকে এএফপি জানায়, প্রাসাদের কার্নিশজুড়ে স্থাপিত প্রায় ৩০০টি সিংহাকৃতির অলঙ্করণ, যার প্রতিটির নকশা ও অভিব্যক্তি একে অন্যের থেকে ভিন্ন, এই বৃহৎ পুনরুদ্ধার প্রকল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংস্কারকাজের মধ্যে ভবনটির ছাদ, সম্মুখভাগ এবং বহিরাংশের ঐতিহাসিক স্থাপত্যরূপও পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
রোমের সংস্কৃতিবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ড্যানিয়েলা পোরো সাংবাদিকদের জানালেন, সংস্কারকাজ চলাকালে মাচায় উঠে শত শত বছরের পুরোনো ভাস্কর্যগুলোকে কাছ থেকে দেখা এবং স্পর্শ করার অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য ‘অত্যন্ত আবেগময়’ ছিল। তিনি ইতালির রাজধানী রোমের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ১৬শ শতকের এই প্রাসাদকে ‘বিশ্ব স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক অনন্য শ্রেষ্ঠকীতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ভবনটির সম্মুখভাগের নকশা করেছিলেন রেনেসাঁ যুগের কিংবদন্তি শিল্পী মাইকেলেঞ্জেলো।
সংস্কার প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ফরাসি স্থপতি পিয়ের-অঁতোয়ান গাতিয়ে বলেন, ভবনের বিশাল কার্নিশটি নিজেই একটি অসাধারণ শিল্পকর্ম। তিনি জানান, বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, সামনের অংশে থাকা একটি সিংহমাথার ভাস্কর্য সম্ভবত স্বয়ং মাইকেলেঞ্জেলোর নিজের হাতে খোদাই করা।
ফ্রান্সে ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থপতিদের একজন গাতিয়ে জানান, সংস্কারকাজে বেশ কয়েকটি বিস্ময়কর তথ্যও সামনে এসেছে। ভবনের দেয়ালের ফাঁক থেকে উদ্ধার হওয়া প্রাচীন টেনিস বলের মাধ্যমে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো একসময় প্রাসাদের বহির্ভাগ খেলাধুলার ক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। তিনি এ সম্পর্কে বলেন, ‘এটি ছিল এমন একটি প্রকল্প, যেখানে প্রতিটি ধাপেই নতুন কিছু আবিষ্কারের সুযোগ মিলেছে।’
ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে পালাজ্জো ফারনেজে ফ্রান্সের দূতাবাস হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে।
ইতালিতে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত আন-মারি দেস্কো বলেন, এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটির নিয়মিত সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার ‘ফ্রান্স ও ইতালির অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য পারস্পরিক অঙ্গীকার এবং দুই দেশের গভীর বন্ধুত্বের প্রতিফলন।’
এই সংস্করণটি ভাষার প্রবাহ, বর্ণনার সৌন্দর্য এবং আন্তর্জাতিক ফিচারধর্মী প্রতিবেদনের আবহকে আরও পরিশীলিত করে তুলেছে, তবে মূল তথ্যের প্রতি সম্পূর্ণ বিশ্বস্ততা বজায় রাখা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন