প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কোনো জেলা বা উপজেলায় চাকরিপ্রার্থীরা জানেন না তাদের এলাকায় কোন প্রতিষ্ঠানে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানগুলোও জানে না কোন এলাকায় দক্ষ কর্মী উপলব্ধ। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, প্রথমে কিছু নির্বাচিত জেলা ও উপজেলায় এই কার্যক্রমের পরীক্ষামূলক (পাইলট) শুরু হবে। পাইলট কার্যক্রমের ফলাফল বিশ্লেষণ করে পরবর্তীতে এটি দেশের অন্যান্য জেলা ও উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিল মাসে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়। উদ্যোগটির বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব কামরুন নাহার জানান, কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে আমরা পাইলট কার্যক্রম শুরু করব। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু উপজেলা বা জেলা পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পরবর্তী মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনের উপস্থিতিতে পাইলট কার্যক্রমের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচিত এলাকায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা নিয়ে পরে ধাপে ধাপে অন্যান্য এলাকাগুলোকে এর আওতায় আনা হবে।
এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মূল উদ্দেশ্য হলো চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতার তথ্য একটি সিস্টেমের মাধ্যমে একত্রিত করা। চাকরিপ্রার্থীরা তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য নিবন্ধন করতে পারবেন। অন্যদিকে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের শূন্য পদ ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতার তথ্য প্রদান করতে সক্ষম হবে।
এরপর প্রার্থীর যোগ্যতা ও দক্ষতার সঙ্গে পদের প্রয়োজনীয়তা মিলিয়ে উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে বের করার ব্যবস্থা থাকবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মী প্রয়োজন হলে, স্থানীয়ভাবে নিবন্ধিত চাকরিপ্রার্থীদের মধ্য থেকে উপযুক্ত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার সুযোগ তৈরি হবে।
সরকারের বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়েছে, যদি কোনো চাকরিপ্রার্থীর প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতি থাকে, তবে তাকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে, কোন শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রার্থীরা প্রথম ধাপে নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন, স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে শূন্য পদের তথ্য দেবে এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কোন দপ্তর এটি সমন্বয় করবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কাঠামো এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এ উদ্যোগের সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদার তথ্য সংগ্রহের বিষয়টিও যুক্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যৌথভাবে লেবার ডিমান্ড সার্ভিস সার্ভে নিয়ে কাজ করছে। এতে বিভিন্ন খাতে কী ধরনের কর্মীর চাহিদা রয়েছে, কী দক্ষতা প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতে কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা বাড়তে পারে, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অর্থাৎ, একজন চাকরিপ্রার্থী হয়তো কাজ খুঁজছেন, কিন্তু তার এলাকায় যে কাজটি রয়েছে, তার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা তার নেই। আবার, তার যে দক্ষতার চাহিদা রয়েছে, সেই কাজ হয়তো অন্য জেলায়। এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে এই তথ্যের অমিল কমানোর চেষ্টা করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন