প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির একটি সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘অযাচিত’ আখ্যা দিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব নিজের এবং ছাত্রদলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই প্রতিক্রিয়া জানান।
সম্প্রতি এক টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে নিলোফার চৌধুরী মনি জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব এবং হত্যাকাণ্ডের ধরন সম্পর্কে বেশ কিছু বিতর্কিত প্রশ্ন তুলেছিলেন, যা ছাত্রদলের এই কঠোর প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টকশোতে অংশ নিয়ে নিলোফার চৌধুরী মনি প্রশ্ন করেন, জুলাই আন্দোলনে স্নাইপারদের কর্মকাণ্ড ছিল কাদের? তিনি বলেন, ‘অনেক কিছুই আমি বলতে চেয়েও বলতে পারি না। কারণ অনেক কিছু বললে অনেকের কাপড়-চোপড় ঠিক থাকবে না। যারা আজ কথা বলে, তারা কখন কোথায় কীভাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেখা করে এই কাজগুলো করেছিল, তাদের কতটা ভূমিকা ছিল?’
আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের সময় বাংলাদেশের পুলিশে স্নাইপার ছিল না, পুলিশের কাছে স্নাইপার নেই।
কিন্তু আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে নিলোফার বলেন, ‘যাদের বলা হয় যে তারা (আন্দোলনের) মেইন, এই আন্দোলনে কারা মেইন ছিল, কেউ জানে না। আন্দোলনে অংশ নেয়াদের একজন আরেকজনকে চেনে না। পাশেই হাঁটতে গিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে কেউ পড়েছে। মনে করছে যে নরমাল পড়েছে। আসলে সে মারা গিয়েছে। গুলিটা সামনে থেকে আসছে না পেছন থেকে আসছে, সেটাও জানে না। গুলির কোনো শব্দ হয় নাই, এটা স্নাইপারের গুলি ছিল।’
উপস্থাপিকা প্রশ্ন করেন, মানে কি এটি কোনো ডিজাইন ছিল? ষড়যন্ত্র ছিল?
জবাবে মনি বলেন, ডিজাইন তো অবশ্যই ছিল। ষড়যন্ত্র কিনা আমি তা জানি না।
'এটাও সত্যি যে, একটা মহাস্বৈরাচার থেকে দেশ উদ্ধার হয়েছে। শেখ হাসিনা যদি এত বড় স্বৈরাচার না হতো এটার দরকার ছিল না। কিন্তু এটা যে শুধু শুধুমাত্র যারা আন্দোলনে ছিল তাদের হাতেই ছিল, তা কিন্তু না।'
উপস্থাপিকা মন্তব্য করেন, যারা সাধারণ ছেলেমেয়ে, যারা আন্দোলনে এসেছিল তারা তো আর কিছু বুঝলো না। তারা তো প্রতিবাদের জন্য রাস্তায় নামলো। তাদের অনেকেই এসেছিলো কিছু না জেনে। তারা একটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে এসেছিল, আবেগে এসেছিল। তারা একে অপরকে চেনে না।
উপস্থাপিকা প্রশ্ন করেন, সেই ইমোশনটিকে কি প্রতারণা করা হয়নি?
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের এক নেতার উদ্ধৃতি দিয়ে মনি বলেন, আন্দোলনে কেউ কাউকে চেনে না। মারলো কারা, তা জানে না। সামনে কোনো পুলিশও ছিল না। পুলিশের গুলি হলে তো সামনে হত। হতে পারে কোনো বাসা থেকে টার্গেট করে, উপরতলা থেকে টার্গেট করে গুলি করা হয়েছে। কিন্তু আমার কাছে অনেক প্রশ্নের উত্তর নেই। অনেক কিছু আমি স্টাডি করার চেষ্টা করেছি কিন্তু একটা জায়গায় এসে আর উত্তর নেই।
নিলোফার চৌধুরী মনির এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘প্রিয় নিলোফার চৌধুরী মনি আপা, এমপি; আপনি দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের সারথি ছিলেন। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনার অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি টেলিভিশন টকশোতে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আপনার অযাচিত বক্তব্যে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। আপনার বক্তব্য আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম।’
নিলোফার চৌধুরী মনিকে উদ্দেশ্য করে ছাত্রদল সভাপতি আরও জানিয়েছেন, ‘আমরা অবগত রয়েছি, আপনি জুলাইয়ের চেতনা ধারণকারী একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। তাই জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বক্তব্যে আপনি আরও বেশি সংযত ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন, সেটাই প্রত্যাশা করি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন