প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি একটি মন্তব্যধর্মী প্রতিবেদনে বলেছে, ইরানের সামনে পারমাণবিক বোমা তৈরি করা ছাড়া এখন আর অন্য কোনো পথ নেই। এই মন্তব্যটি এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি প্রাথমিক সমঝোতার আওতায় তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
গত রোববার (২৮ জুন) প্রকাশিত ফার্স নিউজের বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে বলা হয়েছে, প্রতিপক্ষের সঙ্গে কার্যকর আলোচনায় বসার আগে ইরানকে অবশ্যই নিজের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হবে।
প্রতিবেতে দাবি করা হয়েছে, 'ইরানের প্রয়োজনীয় শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য দেশটির অবশ্যই পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা অর্জন করা দরকার। এতে অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ সহজ হবে।'
নিবন্ধে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে শীতল যুদ্ধের সময় চীনের পারমাণবিক কর্মসূচির তুলনা করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র একসময় চীনকে দুইবার পারমাণবিক হামলার হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু চীন পারমাণবিক বোমা বানানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার গোপনে বেইজিং সফর করেন এবং দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পথ তৈরি হয়।
এতে আরও বলা হয়, 'পারমাণবিক প্রতিরোধের অর্থ যুদ্ধ শুরু করা নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মতো পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশের সঙ্গে শক্তির ভারসাম্য তৈরি করা, যাতে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যায়।'
ফার্স নিউজের এই অবস্থান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘ কয়েক মাসের সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনা শেষে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরান নীতিগতভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তদারকি পুনরায় চালুর বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে একটি বিস্তৃত চুক্তির পথ তৈরি হয়।
তবে এরপর থেকেই ইরান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। বিশেষ করে, আইএইএর পরিদর্শকরা কবে আবার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশ করে পরিদর্শন শুরু করতে পারবেন, তা নিয়ে তখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি গত শুক্রবার বলেন, শুধুমাত্র ইরানের মৌখিক ঘোষণা যথেষ্ট নয়; বাস্তব যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে দেশটি চুক্তির শর্ত মেনে চলছে।
তার ভাষায়, 'ইরান সরকার স্পষ্টভাবে বলেছে যে তাদের উদ্দেশ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা নয়। কিন্তু শুধু উদ্দেশ্য প্রকাশ করলেই হবে না, তা বাস্তবেও প্রমাণ করতে হবে।'
চলমান আলোচনার মধ্যে আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত পরমাণু বোমা সম্পর্কিত মন্তব্য ইরানের অভ্যন্তরে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইরানের প্রকৃত পারমাণবিক উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন