প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কুমিল্লার লালমাইয়ে ফসলি জমি থেকে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় জান্নাতুল তাজমিন (১৫) নামে সপ্তম শ্রেণির এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার সঙ্গে একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে।
ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে নামছে তাজমিন। এরপর সে হোটেলের পশ্চিম পাশে কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যায়। একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এ সময় দোকানিকে তাকে কিছু দেখাতে বা কোনো দিক নির্দেশনা দিতে দেখা যায়।
ফুটেজে আরও দেখা যায়, দোকানের সামনে কিছু দেখানোর পর তাজমিন সেখান থেকে সরে অন্য পাশে চলে যায়। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে নূরজাহান হোটেল এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। তবে এলাকা ছাড়ার পর তাজমিন কোন পথে গিয়েছিল, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তার চলাচলের পথ এবং সম্ভাব্য যাতায়াতের মাধ্যম নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।
এদিকে, ঘটনার স্থান থেকে কিছুটা দূরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। তবে জব্দ করা অটোরিকশাটির সঙ্গে তাজমীনের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। তারা কুমিল্লা শহরের রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে তাজমিন বের হয়ে যায়। পরে বৃহস্পতিবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাজমিন কুমিল্লা শহরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
ঘটনার স্থলে দেখা গেছে, লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নির্জন পাকা সড়ক। সড়কের দুপাশে বিস্তৃত সবুজ মাঠ রয়েছে। সড়কের মধ্যবর্তী স্থানের দুপাশে অন্তত ৪ থেকে ৫টি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন দেখা গেছে। ক্ষেতের মধ্যে থাকা মাথা তোলা ধানগাছ এলোমেলো হয়ে আছে। এটি স্পষ্ট যে, তাজমিন জীবন বাঁচাতে হত্যাকারীদের হাত থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল। সড়কের একপাশে ধানক্ষেতে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা পড়ে ছিল। পরে স্থানীয়রা সেটিকে সড়কের ওপর নিয়ে আসে।
স্থানীয় জগতপুর গ্রামের বাসিন্দা তমাল বনিক জানান, সকালে কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার পাকা সড়কের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমিতে গিয়ে আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলায় গামছা পেঁচানো এবং মুখ মাটিতে চেপে রাখা ছিল।
নিহতের বাবা আবদুল আলীম জানান, ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে তাজমিন বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। বিভিন্ন সময় ফোনে যোগাযোগের সময় সে বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা জানায়। বুধবার রাত পৌনে ২টার দিকে তাজমিন তাকে মেসেজের পাশাপাশি লাইভ লোকেশন পাঠায় এবং সেখানে এসে তাকে নিয়ে যেতে বলে। তখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে ভোরে ঘুম থেকে উঠে মেসেজ দেখতে পান। লাইভ লোকেশনে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা দেখতে পান তিনি।
সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস জানান, ৪ অক্টোবর কুমিল্লা শহরে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল জান্নাতুল তাজমিন। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে আবার ভোররাতে কক্সবাজার যায়। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
সহকারী পুলিশ সুপার আরও জানান, উদ্ধার করা সিএনজির ভেতর থেকে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ ও জামা পাওয়া গেছে। নিহতের বাবা জামা দেখে সেটি জান্নাতের বলে শনাক্ত করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মরদেহটি প্রথমে অজ্ঞাত ছিল। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতের বয়স আনুমানিক ১৫ বছর। তার গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, আমরা ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছি। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতকদের আটক করতে অভিযান পরিচালনা করছি। শিগগিরই ঘাতকদের আটক করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন