প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পাবনার সাঁথিয়ার একটি মসজিদে পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের ইমামতীতে জুম্মার নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে কেউ গুরুতর আহত হয়নি। পুলিশ তাৎক্ষণিক পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
এই ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুম্মার জামাতের ঠিক আগ মুহূর্তে সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদের ভেতরে। পুলিশ, দলীয় নেতাকর্মী, স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন গত শুক্রবারে এই মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়াতে চান। কিন্তু সেদিন বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের আপত্তির মুখে তার নামাজ পড়ানো সম্ভব হয়নি। পরে আজ শুক্রবার তিনি নামাজ পড়াতে আসলে খুতবা শুরুর সময় আবারও মসজিদে উপস্থিত বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা বাধা দেন। এসময় জামায়াত কর্মী-সমর্থকদের সাথে বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঝামলার আশঙ্কায় পূর্বে থেকেই উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মসজিদের নির্ধারিত ইমামের ইমামতীতে জুম্মার নামাজ শেষ হয়।
এ ব্যাপারে সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. করিম জানান, দলীয় প্রভাব বিস্তারের জন্য জামায়াত এমপি গত শুক্রবারেও নামাজ পড়াতে চাইলে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে সেটি সম্ভব হয়নি। আজ আবার ক্ষমতা দেখাতে লোকজন নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে এসেছিলেন। এসে জামায়াত এমপি ইমাম সাহেবের হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে মিনিট দশেক বক্তব্য দেন। কেউ প্রতিবাদ করেনি। পরে তিনি খুতবা পাঠ করার ও নামাজ পড়ানোর ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা আপত্তি করে। এসময় জামায়াত-শিবির এবং এনসিপি কর্মীরা ধমকানো, ধাক্কাধাক্কি ও কিল-ঘুষি দেওয়া শুরু করে। প্রতিবাদ করার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ সবাইকে থামালে অবশেষে ইমামের মাধ্যমে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এ ব্যাপারে পাল্টা অভিযোগ করে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, ‘আমি ক্ষমতা প্রদর্শন করতে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে নামাজ পড়াতে যাইনি। স্থানীয়দের দাবির মুখে গিয়েছি। গত জুম্মাতেও তারা দাবি জানালে সেখানকার বিএনপি নেতাকর্মীরা ঝামেলা করার জন্য আমাকে যেতে দেয়নি। পরে আজ নামাজের আগে কোনো ঝামেলা হবে না জানিয়ে স্থানীয়রা আমন্ত্রণ জানালে সেখানে যাই। কিন্তু খুতবার সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা ঝামেলা শুরু করে। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা।’
তিনি অভিযোগ করেন, ঝামেলাটি তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে করেছে। গোপীনাথপুরের বিএনপি নেতা করিম, সেক্রেটারি সিরাজ এবং ওই এলাকার বাসিন্দা নয় এমন বহু নেতাকর্মী তারা নিয়ে এসে এই ঝামেলাটি সৃষ্টি করে। আমাদের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মারধরও করে। নামাজের পরে আমাদের এক কর্মীর দোকানে আক্রমণ করে লুটপাট ও মারধর করেছে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলেও দাবি করেন এই এমপি।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, এমপি সাহেবের সেখানে নামাজ পড়ানোর আগেও ঝামেলা হতে পারে এমন আশঙ্কাজনক সংবাদ ছিলো পুলিশের কাছে। তাই সেখানে পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলো। এরপরও নামাজের আগ মুহঁর্তে মসজিদের ভেতরে কথা কাটাকাটি ও হালকা ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। তৎক্ষণাৎ পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। মারধর বা আহতের ঘটনা ঘটেনি। এখন পরিস্থিতি একদম স্বাভাবিক রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন