প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাড়ির সেপটিক ট্যাংক এবং পরিত্যক্ত কূপে মৃত্যুফাঁদ রূপ নিয়েছে। বদ্ধ স্থানে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। কখনো কেউ পরিষ্কার করতে গিয়ে মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন, আবার কখনো অসতর্কতায় প্রাণ হারাচ্ছেন শিশু, শ্রমিক এবং পরিবারের সদস্যরা। গত পাঁচ বছরে ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের দুর্ঘটনায় ২২৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে কখনোই বদ্ধ স্থানে নামা উচিত নয়।
সম্প্রতি দেশে সেপটিক ট্যাংক এবং পরিত্যক্ত কূপে বিষাক্ত গ্যাসের কারণে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ‘সেপটিক ট্যাঁক দুর্ঘটনা’ লিখে গুগলে অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, অসংখ্য ঘটনার খবর পাওয়া যায়। বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরো এক বা একাধিক ব্যক্তি প্রাণ হারাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা হাইড্রোজেন সালফাইড, কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং মিথেনের মতো বিষাক্ত গ্যাস কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একজন মানুষকে অচেতন করে ফেলতে পারে। এরপর ঘটে মৃত্যু। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গ্যাস পরীক্ষা করা হয় না। অক্সিজেন সাপোর্ট, গ্যাস ডিটেক্টর, সেফটি হার্নেস এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জামও থাকে না। ফলে একজনকে বাঁচাতে গিয়ে আরো অনেকের প্রাণ বিপন্ন হয়।
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. রওশন মমতাজ জানাচ্ছেন, অনেকেই জানেন না যে এ কাজটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এবং এই ক্ষেত্রে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। মিউনিসিপ্যালিটি যখন এ সেবা সরবারহ করে, তখন যারা এ কাজে নিয়োজিত থাকেন, তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং তদারকির অভাব দেখা দেয়। এর ফলস্বরূপ এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সেপটিক ট্যাংক, স্যুয়ারেজ এবং কূপ সংক্রান্ত ১৭৫টি দুর্ঘটনায় ২২৯ জন নিহত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামান্য সতর্কতা অবলম্বন করা হলে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। সেপটিক ট্যাংক অথবা পরিত্যক্ত কূপে নামার আগে কিছু সহজ দেশীয় পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ তারা দিয়েছেন। যেমন, একটি জ্বালানো হারিকেন বা কূপি দড়ি দিয়ে ধীরে ধীরে কূপের ভেতরে নামাতে হবে। যদি সেটি দ্রুত নিভে যায়, তাহলে বুঝতে হবে সেখানে অক্সিজেনের অভাব রয়েছে।
এছাড়া পাতাসঙ্গে গাছের ডাল দড়িতে বেঁধে বারবার কূপের ভেতরে উঠানামা করলে কিছু বিষাক্ত গ্যাস বাইরে বের হয়ে যায় এবং কিছু অক্সিজেন ভেতরে প্রবেশ করে। পাশাপাশি পরিত্যক্ত বা অরক্ষিত কূপ এবং সেপটিক ট্যাংক স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ঢাকা ফায়ার সার্ভিস ট্রেনিং কমপ্লেক্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেছেন, প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চললে সেপটিক ট্যাংক বা এ ধরনের স্থানে দুর্ঘটনা শতভাগভাবে এড়ানো সম্ভব। এসব জায়গায় নামার জন্য বিশেষ ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রয়োজন। তাই সেখানে প্রবেশের আগে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে অবশ্যই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহায়তা নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র উদ্ধার ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, বরং সেপটিক ট্যাংকের নিরাপদ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও অত্যাবশ্যক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন