প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। ‘মহাসমাবেশ ও বিক্ষোভ’ কর্মসূচি উপলক্ষে সমর্থকদের যন্তর মন্তরে জড়ো করার জন্য তেলাপোকা বা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার ২০ হাজারের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করেছে; সঙ্গে রয়েছে ৫ হাজারের মতো সিআরপিএফ সদস্য। এ ছাড়া ১২টি অস্থায়ী বন্দিশিবিরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে ইন্ডিয়া টুডে ।
প্রতিবেদন অনুসারে, তেলাপোকাদের নতুন এই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গত ২০ জুলাইয়ের ঘটনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছে। ওই দিন প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালে বিশৃঙ্খলা ও পুলিশের পদক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যার ফলে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এবারের বিক্ষোভের পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে, যদিও পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
আন্দোলন ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে দিল্লির যন্তরমন্তর ও তার চারপাশের ৪ কিলোমিটার এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত যন্তরমন্তর ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে।
এছাড়া, রাজধানী ও তার আশপাশের বিভিন্ন এলাকা এবং অন্যান্য রাজ্য থেকে সিজেপির কর্মসূচিতে লোকজন যাতে যোগ দিতে না পারে, সেজন্য নয়াদিল্লির ৪৫টি মেট্রোস্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ২৫০টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
দিল্লির কেন্দ্রস্থল যন্তর মন্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা অনেকাংশে জোরদার করা হয়েছে। বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার সড়কে অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। শেষের কয়েকটি স্তর ঝালাই করে জোড়া লাগানো হয়েছে, যাতে সেগুলো ভেঙে পার হওয়া আরও কঠিন হয়।
সংবেদনশীল স্থানগুলোতে লাউডস্পিকার বসানো হয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে রেকর্ড করা ঘোষণায় জানানো হচ্ছে, প্রস্তাবিত বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। লোকজনকে বিক্ষোভে জমায়েত না হওয়া, স্লোগান না দেয়ার, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি না করার এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা না চালানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।
কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ ও আবাসিক কল্যাণ সমিতিগুলোকে (আরডব্লিউএ) জানানো হয়েছে যে বিক্ষোভের অনুমতি নেই। নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির বিভিন্ন লজ ও হোটেলেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। হোটেল ব্যবস্থাপকদের অতিথিদের বিক্ষোভে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করতে বলা হচ্ছে। এ ছাড়া, এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাসা ভাড়া দেন এমন ব্যক্তিদের এবং সম্পত্তির মালিকদেরও বিক্ষোভে যোগ দেয়ার পরিকল্পনা করছেন— এমন ব্যক্তিদের কাছে তাদের সম্পত্তি ভাড়া না দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ প্রায় দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একটি এলাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ও দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান। দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই এলাকায় ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি সদস্য মোতায়েন করা হবে। ফলে এলাকাটি কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত অঞ্চলে পরিণত হবে।
নজরদারিও জোরদার করা হচ্ছে। নয়াদিল্লি জেলার বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে অডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হবে এগুলোর মাধ্যমে।
সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রস্তাবিত সমাবেশ সংক্রান্ত অনলাইন পোস্ট ও বার্তাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং খবর অনুযায়ী, ২০০ জনেরও বেশি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর পুলিশের নজরদারির আওতায় রয়েছেন।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলোতে পুলিশের অসদাচরণ ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠায় এবারের বিক্ষোভ মোকাবিলার প্রতিটি ঘটনা নথিবদ্ধ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি পুলিশ।
ঘটনাগুলো বিভিন্ন দিক থেকে নথিবদ্ধ করতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও তার ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ দায়িত্বে থাকা অন্য সদস্যদেরও বডি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে ধারণ করতে শত শত আলোকচিত্রী ও ভিডিওগ্রাফার নিয়োগ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের আশা, এসব ফুটেজের মাধ্যমে ঘটনার ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠা করা যাবে, যাচাইযোগ্য প্রমাণ দিয়ে বিভ্রান্তিকর দাবি মোকাবিলা করা যাবে এবং কোনো ঘটনা ঘটলে তদন্তে সহায়তা পাওয়া যাবে।
দিল্লি পুলিশ একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছে। চিঠিতে সব পক্ষকে মানবিকতা ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন