প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার সংবাদ প্রচার করার জন্য দায়ী টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বন্ধ করার নির্দেশনা তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে দেয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের তরফ থেকে। এই তথ্যটি প্রসিকিউশনের নতুন একটি কল রেকর্ডে উঠে এসেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নের্তৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে কল রেকর্ডটি প্রমাণ হিসেবে জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। এটি ওবায়দুল কাদের এবং অন্য ছয়জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্কের চতুর্থ দিনে উপস্থাপন করা হয়।
প্রসিকিউশনের উদ্ধার করা কল রেকর্ডে, ওবায়দুল কাদেরকে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিতে শোনা যায়। তিনি তখন জানান যে, সংঘাতের খবর যাতে সম্প্রচারিত না হয়, সেজন্য তিনি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে সুস্পষ্ট নির্দেশ দেন।
এ পর্যায়ে আরাফাত জানাতে থাকেন, এর আগের দিন কিছু টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং যেসব চ্যানেল নির্দেশনা মানবে না, সেগুলোকেও তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আরাফাত কথোপকথনে আরও বলেন, সংঘাত সম্পর্কিত ছবির, ভিডিও বা ফুটেজ প্রচারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলকে ‘এনিমি অব দ্য স্টেট’ ঘোষণা করে স্থায়ীভাবে বন্ধ করার হুমকি দেয়া হয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ওই চ্যানেলের সম্প্রচার প্রতি নজরদারির ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন।
আরাফাত কাদেরকে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, তিনি পরিস্থিতিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে উপস্থাপনার প্রস্তাব দেন। একদিকে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রয়েছেন এবং অন্যদিকে ‘তৃতীয় পক্ষ’ হিসেবে জামায়াত-বিএনপির লোকজন আছে যারা সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগ করছে বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত-বিএনপির ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে কারফিউয়ের সিদ্ধান্তকে এবং কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে সমাধান খুঁজে বের করার উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান এই মামলার আসামি।
এর সাথে, গত রোববার (৯ আগস্ট) মামলার যুক্তিতর্কের তৃতীয় দিনে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের কথোপকথনের আরো একটি কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় প্রসিকিউশন।
এই কল রেকর্ড অনুযায়ী, জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেটের গতির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। তবে পলক তাকে জানিয়েছেন, এ পদক্ষেপ নেয়ার আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতি প্রয়োজন হবে।
প্রসিকিউশন কর্তৃক প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, মামলার সাত আসামি বর্তমানে পলাতক আছেন। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।
পরবর্তীকালে, গত ২ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত করেছেন মোট ২৮ জন সাক্ষী এই মামলায়। বর্তমানে মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন