প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কাঁধে বইয়ের ব্যাগ এবং হাতে বই নিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ের পথে রওনা হন ফয়েজ হোসেন (১৬)। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার চলার পথে বাধা সৃষ্টি করেছে, তবে তার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সাহস ও মনোবল নিয়ে নিয়মিত লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে সে।
ফয়েজ হোসেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তুলপাই দারাশাহী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সে নিজেকে কখনো অন্যদের চেয়ে ছোট মনে করে না। বরং, নিজের ভবিষ্যৎকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পড়াশোনাকেই সবচেয়ে বড় অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করেছে।
প্রতিদিন কাঁধে বইয়ের ব্যাগ নিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছান ফয়েজ। বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পর সহপাঠীদের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটান এবং ক্লাসে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেন। শিক্ষক ও সহপাঠীরা তাকে আপনজনের মতো ভালোবাসে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করে। তাদের আন্তরিকতা ফয়েজের চলার পথকে আরও সহজ করে তুলেছে।
ফয়েজের পরিবারও তার স্বপ্ন পূরণে পাশে রয়েছে। তার বাবা দুলাল মুন্সি একজন দরিদ্র মানুষ। নানা অভাব-অনটনের মধ্যেও ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ছেলেকে একদিন উচ্চশিক্ষিত করে সরকারি চাকরিতে দেখতে চান বাবা। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ছেলের পড়াশোনা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
ফয়েজের সহপাঠীরা জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তারা কখনো তাকে আলাদা চোখে দেখে না। সে তাদের কাছে একজন ভাই ও বন্ধুর মতো। পড়াশোনা, খেলাধুলা কিংবা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ফয়েজকে তারা নিজেদের একজন হিসেবেই মনে করে। তার পরিশ্রম, মনোবল ও আগ্রহ তাদেরও অনুপ্রাণিত করে।
নিজের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী ফয়েজ হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ রয়েছে। নানা প্রতিকূলতা জয় করে তিনি ভালো কিছু করতে চান। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ভবিষ্যতে চাকরি করার স্বপ্ন তার। এই স্বপ্ন পূরণে সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রত্যাশা করেন তিনি।
ফয়েজের সফলতা কামনা করে তুলপাই দারাশাহী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ফয়েজের অদম্য মনোবল ও আত্মশক্তি সত্যিই প্রশংসনীয়। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, কচুয়া উপজেলায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। ফয়েজ যদি নির্ধারিত যোগ্যতার আওতায় থাকে, তাহলে তাকে শিক্ষা উপবৃত্তিসহ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার আওতায় সহযোগিতা করা হবে।
ফয়েজের গল্প শুধুমাত্র একজন শিক্ষার্থীর গল্প নয়— এটি প্রতিকূলতার কাছে হার না মানা এক কিশোরের স্বপ্নযাত্রার গল্প। শারীরিক সীমাবদ্ধতা যেখানে অনেকের পথ থামিয়ে দিতে পারে, সেখানে ফয়েজ বই-খাতা আর অদম্য মনোবলকে সঙ্গী করে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছেন। তার চোখে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন, এবং সেই স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের সম্মিলিত সহায়তা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন