প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সেতু প্রায় পাঁচ বছর ধরে অবহেলায় পড়ে রয়েছে, কারণ এখানে কোনো সংযোগ সড়ক নেই। মূল কাঠামোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তবে দুটি পাশে সংযোগ বা অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় এটি জনগণের জন্য কোনো কাজে আসছে না। বরং, অস্থায়ী কাঠের মই এবং ঝুঁকিপূর্ণ পোল ব্যবহার করে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন মানুষ ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা দাবি জানিয়েছেন দ্রুত সেতুটিকে চলাচলের উপযোগী করে দেয়ার জন্য।
এই সেতুটি পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের সঙ্গে ভুরিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ২০২১ সালে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ বছর পরে, এটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।
আগেরভাবে বলা হয়েছে, সেতুর মূল কাঠামোর বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও এখনো এটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে, কারণ সংযোগ সড়ক নেই। কাঠের অস্থায়ী মই ব্যবহার করে বয়স্ক, নারী, শিশু, রোগী এবং স্কুল শিক্ষার্থীদের পারাপার হতে হচ্ছে চরম ঝুঁকিতে। কুড়িপাইকা, ভুরিয়া, পশ্চিম কুড়িপাইকা, পূর্ব কুড়িপাইকা, কমলাপুর, সৌলাসহ আশপাশের অন্তত আটটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ দৈনন্দিন এই দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য হচ্ছে।
বর্ষা মৌসুমে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সে সময় সেতুর আশপাশের সড়কে কাদা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যার ফলে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেয়া এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও দেখা দেয় নানা প্রতিবন্ধকতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলছে এবং মাঝে মাঝে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাসার বলেন, 'আমাদের প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে পটুয়াখালী শহরে যেতে হয় এই ব্রিজ পার হয়ে। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় আমাদের তিন কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়।'
স্কুল শিক্ষার্থী জারিন জানান, 'এই ব্রিজ পার হয়ে প্রতিদিন আমাদের স্কুলে যেতে হয়। অনেক সময় আমরা ব্রিজে ওঠানামা করতে পারি না। তাই আমাদের দাবি, অতিসত্বর ব্রিজটি ঠিক করে দেয়া হোক।'
এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর বলেন, 'কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে সমস্যাগুলো সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়কসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।'
দ্রুত সেতুর অবশিষ্ট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে, আশা করা হচ্ছে লোহালিয়া ও ভুরিয়া ইউনিয়নের আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ প্রতিদিন স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন