প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে এডিপির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দের মালামাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে। সরকারি বরাদ্দে কেনা এসব বের হয়েছে বাইসাইকেল, ছাগল, স্প্রে মেশিন, সেলাই মেশিন, ফুটবল ও হুইল চেয়ার। জানা গেছে, বিএনপি ও জামায়াত নেতারা নিজেদের মধ্যে এ মালামাল ভাগাভাগি করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এক মাদ্রাসা ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামে বরাদ্দকৃত বাইসাইকেল নিজ হাতে স্বাক্ষর করে তুলে নেন এবং পরে সেটি নিজের নাতিকে উপহার দেন।
যখন বিষয়টি জানাজানি হয়, তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে, অবশেষে বুধবার দুপুরে, ওই জামায়াত নেতা বাইসাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ফেরত দিতে বাধ্য হন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কোটচাঁদপুর কামিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র সাইমুন ইসলামের নামে একটি বাইসাইকেল বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু সাইমুনকে সাইকেলটি না দিয়ে, জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম স্বাক্ষর করে সাইকেলটি তুলে নিয়ে যান এবং পরে সেটি তার মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
ভুক্তভোগী মাদ্রাসা ছাত্র সাইমুন ইসলাম জানায়, তার নামে বরাদ্দ হওয়া সাইকেলটি প্রথমে তাকে দেওয়া হয়নি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ পেলে, বুধবার সাইকেলটি তড়িঘড়ি করে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
শুধু জামায়াত আমিরই নন, বিএনপি নেতারাও বরাদ্দকৃত সাইকেল, সেলাই মেশিন ও স্প্রে মেশিন নিজেদের স্বজনদের মাঝে বণ্টন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত নেতা মাওলানা তাজুল ইসলাম প্রথমে দাবি করেন, সাইকেলটি তার প্রতিবেশী এক ছেলেকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে তিনি বলেন, তার ছেলে বেকার এবং আর্থিক সংকটে থাকায় সাইকেলটি তার পুতনি মারিয়াকে দেওয়া হয়েছিল। তিনি স্বীকার করেন, বরাদ্দকৃত এসব মালামাল জামায়াত ও বিএনপি নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।
সরকারি মালামাল দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ভাগাভাগি ও অনিয়মের এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন বুলবুল সিডল। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে যা শোনা যাচ্ছে, এমন ঘটনা যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং একটি খারাপ নজির সৃষ্টি করবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সরকারি বরাদ্দ যদি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এভাবে ভাগাভাগি হয়ে থাকে, তবে প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে এর পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’
মাওলানা তাজুল ইসলামের এই কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাবেক মাদ্রাসা শিক্ষক ও জামায়াত সমর্থক শের আলীও। তিনি বলেন, ‘মাওলানা তাজুল ইসলাম মোটেও কোনো দরিদ্র মানুষ নন। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন, শহরে তার নিজস্ব বাড়ি আছে এবং সন্তানরাও ভালো চাকরি করেন। একজন দায়িত্বশীল মানুষের এমন সরকারি বরাদ্দের বাইসাইকেল জালিয়াতি করে নেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।’
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সমালোচনার ঝড় উঠলে ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমানের নজরে আসে। পরে তার নির্দেশে বুধবার দুপুরে সাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী অফিসে ফেরত আনা হয়।
কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শক্রমে সাইকেলটি ফেরত আনা হয়েছে এবং এটি নতুন করে প্রকৃত উপকারভোগীর মাঝে বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, বাইসাইকেল ছাড়াও অন্যান্য উপকরণ (যেমন: সেলাই মেশিন, ছাগল, স্প্রে মেশিন ইত্যাদি) বিতরণে আর কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে সুষ্ঠু তদন্ত চালানো হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন