প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি আয় ৮ শতাংশের বেশি কমে গেছে। একই সময়ের মধ্যে, রফতানির পরিমাণও প্রায় ৬ শতাংশ কমে গেছে এবং পোশাকের গড় ইউনিট মূল্যও ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম এই বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। উদ্যোক্তাদের মন্তব্য অনুযায়ী, চীন ও ভারতের রফতানি কমলেও দেশে অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যা থাকার কারণে বাংলাদেশ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একক বৃহত্তম বাজারে রফতানি আয় ৪ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে; এই পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দফতরের টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল অফিস (অটেক্সা) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৩ দশমিক ২৪৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি করেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ কমে গেছে। তবে, একই সময়ে কম্বোডিয়ার রফতানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। তবুও, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।
রফতানি আয় কমেছে তা-ই নয়, রফতানির পরিমাণও নিম্নমুখী। জানুয়ারি থেকে মে সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে মোট ১০৮ কোটি ৫ লাখ এসএমই (স্কয়ার মিটার ইকুইভ্যালেন্ট) পোশাক রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ২১ শতাংশ কম। একই সঙ্গে পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৩ দশমিক ০৫ ডলার থেকে ২ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমে এসেছে।
এনজেড অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালেউদ জামান খান বলেন, বাংলাদেশকে চীন, ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে কঠোর প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। এসব দেশ নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে বিভিন্ন ধরনের কর-সুবিধা দিচ্ছে। অথচ, বাংলাদেশে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ২৭ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ তথা উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা আরও কমে যাবে।
উদ্যোক্তাদের মতে, জ্বালানি সংকটসহ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবও তৈরি পোশাক খাতে পড়েছে। প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা ও প্রণোদনার অভাবের কারণে চীন থেকে সরে আসা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রয়াদেশের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ।
বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, গত প্রায় ছয় মাস ধরে, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বহু ক্রয়াদেশ আগের বছরেই দেয়া হয়েছিল, তবুও অনেক ক্রেতা সেগুলো বাস্তবায়নে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সামান্য প্রণোদনা গ্রহণ করতে গিয়ে উদ্যোক্তাদের কতটা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, এটি বিবেচনায় নিয়ে বলা যেতে পারে যে এই প্রণোদনা তুলে নেয়াই ভালো।
যদিও অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, juste মে মাসের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে, একই সময়ে ইউনিট মূল্য কমেছে শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন