প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদের খারজানির চরের বাসিন্দা শিশুদের প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এখানে শতাধিক পরিবারের শিশুরা জন্ম থেকেই সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া বড় হয়ে ওঠে, ফলে তারা চরম নিরক্ষরতার অন্ধকারে থাকে। সম্প্রতি, শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমের সদস্যরা এই বিষয়টি নজরে আনেন। বর্তমানে সেখানে একটি অস্থায়ী তাবু টাঙিয়ে শিশুরা বর্ণমালা শেখার চেষ্টা করছে, কিন্তু অবকাঠামোগত অভাব এবং নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এই উদ্যোগ থমকে রয়েছে।
গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার সীমানা ঘেঁষা কামারজানি ইউনিয়নে খারজানির চর একটি বিচ্ছিন্ন জনপদ। সেখানে শতাধিক পরিবার দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বসবাস করে আসছে। মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌকা, যার মাধ্যমে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এই চরম ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে আজ পর্যন্ত এই চরের শিশুদের জন্য কোনো ধরনের প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। ফলে, বছরের পর বছর ধরে এখানে একটি সম্পূর্ণ নিরক্ষর প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের বক্তব্য হলো, সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকায় এই এলাকায় সচরাচর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। যদিও তাদের সন্তানদের পড়াশোনার ইচ্ছা রয়েছে, কিন্তু তারা দীর্ঘ নদীপথে কোমলমতি শিশুদের নৌকায় পাঠাতে ভয় পান। এই ভয়ের কারণেই চরের শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বর্তমানে বঞ্চিত রয়েছে।
জিল্লুর রহমান, একজন স্থানীয় বাসিন্দা, এই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, 'চরের ওপারে যাদের আত্মীয়-স্বজন আছে, তাদের মধ্যে দু-একজনের সন্তানের পড়াশোনা হচ্ছে। বাকিরা সবাই শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। এভাবেই এখানকার শতাধিক পরিবারের শিশু নিরক্ষর থেকে যাচ্ছে।'
সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমের জেলা সদস্যরা ওই চরের দীর্ঘ সময়ের বঞ্চনার বিষয়টি নজরে আনেন। স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় এখানে একটি অস্থায়ী তাবু টাঙিয়ে বিভিন্ন বয়সের শিশুদের বর্ণমালা শেখানো হচ্ছে। এই কার্যক্রম চলতে রয়েছে স্থানীয় দুজন শিক্ষকের স্বেচ্ছাশ্রমে।
তবে, খোলা আকাশের নিচে তীব্র রোদ, ধুলাবালি ও ঝড়-বাদলের বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে মাটির ওপর বসে এই শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর শিক্ষার সুযোগ পেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা খুবই খুশি।
স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, তাবু টাঙিয়েও খোলা মাঠে বিভিন্ন বয়সী শিশুদের একসঙ্গে বসিয়ে বর্ণমালা শেখানোর কাজ চলছে।
গাইবান্ধা শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমের সিপিএসডব্লিউ মো. সফিকুর রহমান খান বলেছেন, 'সম্প্রতি অফিসের একটি কাজে গিয়ে ওই চরের শিশুদের শিক্ষা বঞ্চিত থাকার বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। এরপর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী একটি সংগঠন এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা বর্তমানে বর্ণমালা শেখানোর চেষ্টা করছি।'
বর্তমানে কামারজানি ইউনিয়নের খারজানির চরে প্রায় শতাধিকেরও বেশি শিশু প্রাথমিক শিক্ষার উপযোগী রয়েছে, যাদের জন্য একটি স্থায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রয়োজন এখন সময়ের দাবি।
গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি এখানে যোগদান করার কারণে বিষয়টি আগে থেকে অবগত ছিলেন না। তবে শিক্ষার অধিকার সবার এবং এই কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়ানোর জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন