প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিধবার মোবাইলে তিন মাস অন্তর ভাতার টাকা আসে। প্রতারণা করে একটি চক্র প্রতিবারই হাতিয়ে নেয় সেই টাকা। এতে রাগে ক্ষোভে অভিযোগ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ে হাজির হন অসহায় দিনমজুর খতিজা বেগম নামে এই মহিলা। হাউ মাউ করে কেঁদে অভিযোগ দেন এই কর্মকর্তাকে।
অবশেষে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অদ্ভুতভাবে অপ্রস্তুত হয়ে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন ও বলেন, "ভাতার টাকা আমার কাছে আছে। একটু পরে দিয়ে দেওয়া হবে।"
এই কথা শুনে মুহূর্তে হাসি ফুটে উঠে মহিলার মুখে। পরে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিন মাসের বিধবা ভাতার দুই হাজার টাকা দিয়ে দেওয়া হয়। এতে খুশিতে হাউ মাউ করে কেঁদে ফেললেন ভুক্তভোগী বৃদ্ধা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এটি ঘটে। সে বিষয়ে একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়ার পর প্রশংসায় ভাসছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল।
জানা যায়, বিধবা খতিজা বেগম হাতিয়া পৌরসভা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিধবা ভাতা পেয়ে আসছেন। সর্বশেষ কিস্তির টাকা উত্তোলনের সময় এক প্রতারক তার সরলতার সুযোগ নিয়ে কৌশলে পুরো টাকাই হাতিয়ে নেয়। হঠাৎ করেই ভাতার অর্থ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন বৃদ্ধা।
পরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, "আব্বা, আর তো ব্যাক লই গেছে গই, আই অন কেন্নে চলমু" (বাবা, আমার টাকা নিয়ে গেছে, আমি এখন কীভাবে চলব)।
অসহায় বৃদ্ধার কান্না শুনে তাকে সান্ত্বনা দেন ইউএনও মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল। তিনি খতিজা বেগমকে আশ্বস্ত করে বলেন, "আপনার টাকা আমার কাছেই আছে।"
এরপর নিজের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেন। ইউএনওর এমন আশ্বাস ও সহায়তা পেয়ে মুহূর্তেই খতিজা বেগমের মুখে হাসি ফিরে আসে। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল ইকবাল বলেন, "সরকারি ভাতাভোগীদের লক্ষ্য করে প্রতারক চক্র নানা কৌশলে সক্রিয় হয়েছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অপরিচিত ব্যক্তির হাতে কার্ড, মোবাইল ফোন, পিন নম্বর বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া যাবে না। প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে।"
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ইউএনওর মানবিক উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। অনেকেই বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন সহমর্মিতা শুধু একজন অসহায় বৃদ্ধাকেই স্বস্তি দেয়নি, বরং সাধারণ মানুষের কাছে প্রশাসনের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসও আরও দৃঢ় করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন