প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পর্তুগালের পার্লামেন্টে জনপরিসরের জন্য মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী বহুল আলোচিত ‘বোরকা বিল’ চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থী জোট, ডানপন্থী এবং কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর সমর্থনে বিলটি অনুমোদন পেয়েছে। এই বিলটি এখন আইনে পরিণত হওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট চাইলে তিনি এই বিলে স্বাক্ষর করতে পারে, ভেটো দিতে পারে অথবা সাংবিধানিক আদালতে পাঠিয়ে এর সাংবিধানিক বৈধতা যাচাইয়ের আবেদন করতে পারে।
বিলটি প্রথম উপস্থাপন করে কট্টর ডানপন্থী দল শেগা। এই বিলের নীতিগত অনুমোদন সংসদে ২০২৫ সালের অক্টোবরে পাওয়া যায়, কিন্তু পরে এটি সংসদীয় কমিটিতে দীর্ঘ সময় আটকে ছিল।
চলতি বছরের জুনে ক্ষমতাসীন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (পিএসডি) সংশোধিত খসড়া প্রস্তাব করে, যেখানে ধর্মীয় পোশাককে প্রতীক হিসেবে লক্ষ্য না করে জননিরাপত্তা এবং পরিচয় শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয়তাকে মূল যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। সেই সংশোধিত সংস্করণটি এবার সংসদে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
নতুন আইনে জনসমক্ষে এমন পোশাক বা আবরণ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা মুখ পুরোপুরি ঢেকে দেয় এবং পরিচয় শনাক্তে বাধা সৃষ্টি করে। এর আওতায় বোরকা ও নিকাব কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে, যেমন স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন, পেশাগত নিরাপত্তা, ধর্মীয় উপাসনালয়, কূটনৈতিক স্থাপনা এবং বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে মুখ ঢাকার অনুমতি দেওয়া হবে।
আইনে অবহেলাজনিত অপরাধে ২০০ থেকে ২,০০০ ইউরো এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভঙ্গ করলে ৪০০ থেকে ৪,০০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া কাউকে জোরপূর্বক মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করলে আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। সংশোধিত খসড়ায় জরিমানার অঙ্ক নিয়ে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলে, কিন্তু সর্বশেষ অনুমোদিত পাঠে এই সীমাও বহাল রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
বিলটি অনুমোদনের পর পর্তুগালে বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ এবং হতাশা সৃষ্টি হয়ে গেছে। তাদের অভিযোগ, আইনটি কার্যত মুসলিম নারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করবে এবং সামাজিক বৈষম্য বাড়াবে।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও বলেছে, আইনটি ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জন্য একটি হুমকি হতে পারে। সংস্থাটি প্রেসিডেন্টকে বিলে স্বাক্ষর না করে সাংবিধানিক পর্যালোচনার জন্য পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, বিলটির সমর্থকেরা দাবি করেছেন যে, এটি কোনও নির্দিষ্ট ধর্মকে লক্ষ্য করে হয়নি; বরং জননিরাপত্তা, পরিচয় যাচাই এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। তাদের মতে, জনপরিসরে সবার মুখ দৃশ্যমান থাকা নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয়।
যদি প্রেসিডেন্ট বিলটিকে অনুমোদন করেন, তাহলে পর্তুগাল ফ্রান্স, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক এবং সুইজারল্যান্ডের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর কাতারে যোগ দেবে, যেখানে জনপরিসরে সম্পূর্ণ মুখ ঢেকে রাখার ওপর বিভিন্ন মাত্রার নিষেধাজ্ঞা ইতোমধ্যেই কার্যকর রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন