প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইরানে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে মার্কিন সামরিক বাহিনী টানা ১৩তম রাতের মতো বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। এক বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য উল্লেখ করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আরো জোরেশোরে হামলা চালানোর হুমকি দেয়ার পর নতুন এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানাচ্ছে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজের কাছে অন্তত চারজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের পর পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান। জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েত জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী বলছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই আক্রমণ ঠেকাতে কার্যকরী চেষ্টা করছে। ইরাক সীমান্তবর্তী আল-আব্দালি সীমান্ত ক্রসিং এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ-জিসিসি ও জর্ডান।
এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। অ্যাক্সিওসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তেহরানের বিরুদ্ধে আগের যেকোনো হামলার চেয়ে বড় হামলার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, মাসের পর মাস চলমান যুদ্ধের পরও ইরান যথেষ্ট চাপ অনুভব করছে না। তবে সামরিক অভিযান নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি তিনি।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পরে পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন আগ্রাসী পদক্ষেপ শেষে এসে ট্রাম্পের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হবে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে চাপ দিতে গিয়ে নিজেই এক ধরনের জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করেছে।
সংঘাতের প্রভাব দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বন্ধের প্রস্তাব সিনেটে বাতিল হয়েছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের মধ্যেও এখন যুদ্ধের পক্ষে সমর্থন আগের তুলনায় কমেছে। একই সময়ে, ইরানের হামলায় রাশিয়া সহায়তা করেছে কি না, তা তদন্ত করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং অঞ্চলটি বড় ধরনের সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে। তিনি হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব দিয়ে নৌ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন