প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার চরতিল্লি দারুল উলুম মাদরাসা এবং এতিমখানার এক ‘শিক্ষকের বেত্রাঘাতে’ সাত বছরের একটি শিশু শিক্ষার্থীর বাম হাতের কনুইয়ের হাড় ফেটে গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে, তিনি ওই শিশুটির কান্না থামাতে শিশুটির মুখে কলম গুঁজে দেন।
‘দুষ্টু স্বভাবের’ ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদ আশ্রয় ও শিক্ষার জন্য তার বাবা স্থানীয় ওই মাদরাসায় ভর্তি করান।
ঘটনার দিন, ১১ জুলাই, অভিযোগের মুখে থাকা মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ এবং অধ্যক্ষ মো. ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে শিশুটির বাবা সাটুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, “ছেলেটি পড়ার সময় ‘অমনোযোগী’ থাকায় তাকে আমি বেত দিয়ে দুটি বাড়ি দিয়েছি। একটি হাতে লেগেছে, আরেকটি নড়াচড়া করায় অন্য জায়গায় লেগেছে।”
সাটুরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। মামলা করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। তবে তারা এখনও আসেননি। তারা এলে মামলা নেওয়া হবে।”
শিশুটির বাবা ঘটনার বর্ণনায় বলেন, “ঘটনার দিন ছেলে মাদরাসায় গিয়ে আবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে আসে। পরে সে জানায়, সে আর কখনো মাদরাসায় যাবে না। এ কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে। বারবার জানতে চাওয়ার পর এক পর্যায়ে সে পুরো ঘটনাটি আমাদের জানায়।”
তিনি আরো বলেন, পরে ছেলের বাম হাত ফুলে যাওয়া এবং সেখানে রক্ত জমাট বাঁধার চিহ্ন দেখতে পান। পিঠেও ছিল বেতের আঘাতের দাগ। শিশুটিকে মানিকগঞ্জ শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলে এক্স-রে পরীক্ষায় দেখা যায়, তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপরের হাড় ফেটে গেছে।
ভুক্তভোগী শিশুটি তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জানায়, পড়া ঠিকমতো না পারায় সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ মোটা বেত দিয়ে প্রথমে পিঠে, পরে হাতে আঘাত করেন। পরে গালে একটি থাপ্পর দেন। এর ফলে ব্যথায় চিৎকার করে কাঁদতে থাকলে ওই শিক্ষক তার মুখে একটি কলম গুঁজে দেন এবং হুমকি দেন, ২০ থেকে ২৫ মিনিটের কলমটি মুখ থেকে পড়ে গেলে আবারও পেটানো হবে।
এ ঘটনার পর শিশুটি শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে জানান তার বাবা।
তিনি বলেন, “আমার ছেলে এখন মাদরাসার নাম শুনলেই ভয় পায়। আর ওই শিক্ষকের নাম শুনলেও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।”
ছেলেটি ব্যথায় চিৎকার করার পরও কেন তাকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছিল জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ বলেন, “তখন বুঝতে পারিনি ছেলেটির হাতের হাড় ফেটে গেছে। এটা পরে শুনেছি। এটি আমার অনেক বড় অন্যায় হয়েছে। আমি অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং তিনি বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. ওমর ফারুক ঘটনাটিকে অন্যায় বলে স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, “আব্দুল্লাহ হুজুর নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন