প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
হাসিতে জয় করেছিলেন কোটি মানুষ। তাইতো চির বিদায়ের প্রায় দুই যুগ পরেও তিনি বেঁচে আছেন প্রতিটি স্মৃতিতে, প্রতিটি সংলাপে, প্রতিটি হাসির মুহূর্তে।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা ছিলেন দিলদার। পর্দায় তার উপস্থিতি দর্শকের উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে দিত, প্রেক্ষাগৃহে বইতো হাসির ঝরনাধারা। যদিও তিনি ছিলেন একজন কমেডিয়ান, তবুও তাঁর জনপ্রিয়তা আর পাঁচজন নায়কের মতোই ছিল।
বাবা-মা নাম রাখলেন দেলোয়ার হোসেন। সিনেমায় এসে হয়ে গেলেন দিলদার। তিনি শুধু অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন প্রাণবন্ত মানুষ। শুটিং সেটে থাকতেন প্রাণখোলা হাসিতে, সহশিল্পীদের উৎসাহও দিতেন।
অপ্রতিদ্বন্দ্বী কৌতুক অভিনেতা হিসেবে দিলদার নায়ক হিসেবেও অবাক করেছিলেন অনেককে। ‘আব্দুল্লাহ’ সিনেমায় শুধু তাকে দেখতেই হলে উপস্থিত হয়েছিলেন দর্শকরা। এছাড়াও মালেক আফসারীর ‘লাল বাদশা’ সিনেমায় দিলদারের গাওয়া ‘শুধু ডিম দিয়ে পরিচয়’ গানটিও যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
দিলদারের প্রতি দর্শকের ভালোবাসা তো ছিলই, পাশাপাশি ‘তুমি শুধু আমার’ ছবির জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। যদিও এই পুরস্কারটি ছিল তার প্রতিভার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, কিন্তু আসল সম্মান তিনি পেয়েছিলেন জনমানুষের হৃদয় থেকেই।
সিনেমার কাজে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও পরিবারের প্রতি তিনি ছিলেন সমান দায়িত্বশীল। রাত ১০টার পর শুটিং সেটে কখনো থাকতেন না। বাড়িতে ফিরে যেতেন। পরিবারের অর্থনৈতিক বিষয়েও তিনি সচেতন ছিলেন।
২০০৩ সালের আজকের দিনেই দর্শকের মুখের হাসি কেড়ে নিয়ে পরপারে চলে যান দিলদার। তাঁর মৃত্যুর পর ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক কৌতুক অভিনেতা এসেছেন, তবে কেউই দিলদারের অভাব পূরণ করতে পারেনি। দিলদার হয়ে উঠেছিলেন ঢালিউডের অবিচ্ছেদ্য অংশ; যার অনুপস্থিতি বারবার বুঝিয়ে দিয়েছে তার শূন্যতা। বাংলা সিনেপ্রেমীদের কাছে তাই দিলদার আজও এক স্মরণীয় নাম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন