প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এটি নতুন বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত না করে শুধু সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে এবং বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ের জন্য বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ৮ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু সর্বশেষ মে মাসের হিসাবে এই প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশে। এর আগের মাস এপ্রিলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে আসে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে, যা ছিল গত ২২ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এই বাস্তবতায় কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ঋণপ্রবাহ বাড়াতে বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনার কথাও বলা হয়েছে।
তবে উদ্যোক্তারা মনে করছেন, নীতিসুদহার ১০ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকায় কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগে বড় ধরনের বাধা তৈরি হচ্ছে। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বর্তমানে ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে। ব্যাংকগুলো তাদের সব ধরনের চার্জ ও সুবিধা আদায় করছে, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাই।
উদ্যোক্তাদের মতে, অর্থনীতির এই কঠিন সময়ে ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। পাশাপাশি তারল্য সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে কোন ব্যাংক কতটা সক্ষম, তা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, কোন ব্যাংককে সহায়তা দেয়া হবে আর কোন ব্যাংককে ছোট পরিসরে আনা হবে, সে বিষয়ে মুদ্রানীতিতে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। এটি বড় একটি চ্যালেঞ্জ। কারণ, প্রশ্ন হলো; দুর্বল ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে অর্থ দেয়া হবে, নাকি শক্তিশালী ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দেয়া হবে, যাতে তারা বাজারের ঘাটতি পূরণ করতে পারে।
নতুন অর্থবছরের ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়নে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে। এতে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ আরও সংকুচিত হতে পারে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, এর ফলে উৎপাদন কমে গেলে মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে। তাই বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বড় আকারের এডিপি বাস্তবায়নে সরকারের যে ঋণের প্রয়োজন হয়েছে, মুদ্রানীতির মাধ্যমে সেটিকে সহায়তা করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। তবে সরকার যদি ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে উচ্চমাত্রায় ঋণ নেয়, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ সংগ্রহ করে বেসরকারি খাতে ঋণ সরবরাহ বাড়ানোর ব্যবস্থা করা।
বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ছয় মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবাহ সাড়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করতে চায়। তবে সর্বশেষ মে মাসে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন