প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বরিশালে গত কয়েকদিন ধরে মেঘনা নদীতে বড় আকারের দেশীয় পাঙ্গাস ধরা পড়ছে। এটি স্থানীয় জেলেদের মধ্যে দীর্ঘকাল পর স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। মৎস্য অধিদপ্তরের দাবি, অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান এবং কঠোর নজরদারির সুফল এখন দেখা যাচ্ছে।
মেঘনা নদীর একজন জেলে, মান্দ্রা চর কুশরিয়া এলাকার বাসিন্দা নাগর খান বলেন, "মেঘনা নদীতে এখন আর আগের মতো ইলিশ মাছ নেই। গত ১৫ দিন ধরে আমি নদীতে মাছ শিকার করতে যাইনি। বর্তমানে নদীতে জাল ফেললে পাঙ্গাস মাছ পাওয়া যাচ্ছে। তাই আমি রাত থেকে মাছ শিকারে যাবো।"
ধুলখোলা বতুয়া গ্রামের জেলে মোতালেব বেপারীও বলেন, "গত কয়েকদিন ধরে মেঘনা নদীতে বিভিন্ন সাইজের মাছ ধরা পড়ছে। এখন আর খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে না। প্রতিদিনই দুই একজন পাঙ্গাস মাছ হয়তো ধরা পড়ছে জেলেদের জালে। সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১২ কেজি ওজনের পাঙ্গাস মাছ ধরা পড়ছে।"
জেলেদের পাশাপাশি, সদর উপজেলার চরমোনাই বাজারের মাছ বিক্রেতা জাকির হোসেন জানান, গত দুদিন ধরে বাজারে পাঙ্গাস মাছ উঠছে। শনিবার প্রতিটি মাছের দাম ছিল ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকা। রবিবার এসে দাম বেড়েছে এবং বর্তমানে বাজারে পাঙ্গাস মাছ ৯২০ থেকে ৯৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম জানান, "গত দুই বছরে মেঘনা নদী থেকে সব ধরনের অবৈধ বেহুন্দী জাল, পাঙ্গাশের পোনা ধরার চাই এবং সুতার তৈরি লাইন বরশি আমরা উচ্ছেদে সফল হয়েছি। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এর ফল হিসেবে এখন নদীতে দেশীয় পাঙ্গাশের আধিক্য দেখা যাচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "সাধারণত শীত মৌসুমে সীমিত পরিমাণে পাঙ্গাশ পাওয়া যায়। তবে এবার মৌসুমের বাইরেও বড় আকারের দেশীয় পাঙ্গাস ধরা পড়ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ। এটি প্রমাণ করে যে, পোনা নিধন এবং অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করা গেলে নদীর প্রাকৃতিক উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।" সংশ্লিষ্টদের মতে, যদি মৎস্য অধিদপ্তরের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকে তবে মেঘনা নদীতে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য আরও বাড়বে। পাশাপাশি নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জেলেদের জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন