প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের পরিচিতি মাদক ব্যবসা, আধিপত্যের লড়াই এবং রক্তাক্ত সংঘাতের জন্য। এই অপরাধমূলক পরিবেশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একের পর এক অপরাধে জড়িয়ে পড়ে নতুন নতুন মুখরোচক কাহিনী তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তরের সময় গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে গেছেন ক্যাম্পের অন্যতম শীর্ষ মাদকসম্রাট রাজা, যিনি ‘পিচ্চি রাজা’ নামে পরিচিত। এই ঘটনার পর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পাঁচ সদস্যকে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, রাজা শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘সোর্স’ হিসেবে কাজ করতেন। পরে আয়ের অভাবে একটি গ্যাস পাম্পে চাকরি নিলেও এক ঘটনার কারণে চাকরি হারান। ২০১৮ সালে জেনেভা ক্যাম্পে পুলিশের একটি অভিযানে ৫১ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন তিনি।
এটি ছিল তার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা। প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি ছোটখাটো মাদক ব্যবসা শুরু করেন। পরে আবারও কারাগারে গিয়ে বড় অপরাধীদের সংস্পর্শে আসেন এবং বেরিয়ে এসে অপরাধ জগতে সম্পূর্ণরূপে যুক্ত হন।
২০১৪ সালে তৎকালীন গডফাদার ইশতিয়াকের মাধ্যমে অপরাধ জগতে প্রবেশ করেন রাজা। ২০২০ সালে ইশতিয়াকের মৃত্যুর পর ক্যাম্পের মাদক ব্যবসার একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি। একপর্যায়ে টেকনাফ থেকে সরাসরি মাদকের চালান এনে ক্যাম্পে সরবরাহের জন্য বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।
মাত্র ২৭ বছর বয়সে পিচ্চি রাজার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক ও মাদকসহ মোট ৩০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর থানাতেই ২৯টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৩টি হত্যা, ৭টি হত্যাচেষ্টা, ৪টি বিস্ফোরক ও ১৩টি মাদক মামলা অন্তর্ভুক্ত।
বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর ক্যাম্পের আধিপত্য, মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ আদায় নিয়ে বুনিয়া সোহেলসহ কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সঙ্গে রাজার মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই আধিপত্যের লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে ক্যাম্পের ভেতরে অন্তত ১০টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে পিচ্চি রাজা বিশাল সম্পদের মালিক হয়ে উঠেছেন। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, তার শ্বশুর খোরশেদ, শালা নয়ন এবং ফুফাতো ভাই রনির নিয়ন্ত্রণে ২৫ থেকে ৩০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট ও স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে।
এছাড়া আদি, নবাব, শাহজাদা, ফাইজান, বেলুন, রুবেল, নাটা সুমন, সুজন এবং ব্যাটারি কামরানসহ একদল সহযোগীর মাধ্যমে তিনি ক্যাম্পের মাদক সরবরাহ, চাঁদাবাজি এবং প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কাজ পরিচালনা করতেন।
গত ১৯ মে নেপাল থেকে ঢাকায় ফেরার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাজাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রিজন ভ্যান থেকে টয়লেটে যাওয়ার অজুহাতে পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে পুনরায় গ্রেফতার করতে পুলিশ চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান জানিয়েছেন, "কে সোর্স আর কে সোর্স নয়, তা মুখ্য বিষয় নয়; মূল বিষয় হলো অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা।" পিচ্চি রাজাসহ ক্যাম্পের সব অপরাধীকে গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন