প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি কমে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলেও নতুনভাবে ভয়াবহ আকার নিয়েছে নদীভাঙন। জেলার বিভিন্ন নদীর তীরে ৩৬টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। এর ফলে হাজারো পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, জেলার ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা—এই চারটি প্রধান নদীর পানিই বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমতে থাকায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নদীতীরজুড়ে প্রচণ্ড ভাঙন শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভূরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, চিলমারী, রাজারহাট ও সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় একের পর এক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।
ভূরুঙ্গামারীর ধাউরারকুটি গ্রামের বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে তাদের গ্রামের ৩০ থেকে ৩৫টি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। একাধিকবার জিও ব্যাগ ফেলার আবেদন করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের রিপন মিয়া বলেন, ভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানালেও দীর্ঘদিন ধরে কেবল আশ্বাসই মিলেছে। এর মধ্যে সরকারপাড়া ও বানিয়াপাড়ার প্রায় ৩০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, বর্ষার শুরুতেই নদীভাঙনের এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য দাবি জানান তিনি।
এদিকে কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের ৪৯৯ হেক্টর জমির পাট, চীনাবাদাম, আউশ, আমনের বীজতলা ও মরিচের ক্ষেত বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের জন্য এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেছেন, উজানে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে আবারও নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। সুতরাং নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙন মোকাবিলায় অতিরিক্ত জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ জানিয়েছেন, বন্যা মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২৮৫ মেট্রিক টন জিআর চাল, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন