প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর এখন চলছে ভরা মৌসুম। কিন্তু নদী কিংবা সাগর, কোথাও কাঙ্ক্ষিত রুপালি ইলিশের দেখা মিলছে না। ফলে মোকামগুলোতে এখন দেখা দিয়েছে তীব্র ইলিশ সংকট।
ভরা মৌসুমে যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখরিত থাকার কথা ছিল, সেখানেই মোকামজুড়ে এখন সুনসান নীরবতা। লোকসান গুনতে গুনতে গত দুই বছরে অন্তত ৪০ জন পাইকারি ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন।
দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় মাছের মোকাম বরিশালের পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এমনই চিত্র দেখা গেছে। নদীতীরবর্তী জেলেপাড়া থেকে শুরু করে পাইকারি আড়ত সবখানেই বর্তমানে শুধু হতাশার সুরই ধ্বনিত হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীতে জাল ফেললেও একটি ইলিশের দেখা মিলছে না, বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জেলেরা।
বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া এলাকার জেলে রহমত আলী বলেছেন, ‘তেল খরচ ও শ্রমিকের মজুরি ওঠানোর তো প্রশ্নই ওঠে না, চাল কেনার পয়সাও জোটেনা। জাল টানলেই খালি জাল, মাছের দেখা নাই।’
একই উপজেলার চরমোনাই এলাকার আরেক জেলে কালু মাঝি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নিরাপদ প্রজনন আর জাটকা রক্ষার নামে সরকার বছরের ১০ মাসই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রাখে। আমরা আইন মেনে নদীতে যাই না। কিন্তু আমাদের লাভটা কী হলো? নিষেধাজ্ঞা শেষেও নদী খালি। পেটের দায়ে চড়া সুদে ঋণ নিয়েছিলাম, এখন সেই ঋণ শোধ করব কীভাবে?’
নদী আর সাগরের এই চরম সংকটের প্রভাব পড়েছে বরিশালের পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ মণ ইলিশ আসার কথা থাকলেও তা নেমে এসেছে মাত্র ৩০ মণে।
মোকামের ইলিশ ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেছেন, ‘ইলিশের মৌসুমে আমরা দম ফেলার সময় পাই না। আর এখন সারাদিন বসে থাকতে হয়। আড়তে মাছ নাই, বেচাকেনা নাই। এভাবে আরও কতদিন লোকসান গোনা যাবে?’
মাছের অভাবে চরম সংকটে পড়েছেন আড়তের দিনমজুর ও শ্রমিকেরা। মোকামের প্রবীণ শ্রমিক সিদ্দিক মিয়া বলেছেন, ‘মাছ এলে আমাদের কাজ জোটে, টাকা পাই। এখন মাছই নাই, প্যাকিংয়ের কাজ নাই। আমাদের সংসার এখন উপোস থাকার উপক্রম।’
বরিশাল মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জহির সিকদার বলেছেন, ‘পোর্ট রোডের এই মোকাম সচল থাকে ইলিশের ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন এবং নদীতে ডুবোচরের কারণে ইলিশের এই তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। পুঁজিহারিয়ে, লোকসান গুনতে গুনতে গত দুই বছরে বরিশালে আমাদের সমিতির ১৬০ জন পাইকারি ব্যবসায়ী থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১২০ জনে। এভাবে চলতে থাকলে এই খাত পুরোপুরি ধসে পড়বে।’
মৎস্য বিভাগ বলছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে ইলিশ তার চারণভূমি ও গতিপথ পরিবর্তন করছে।
এ বিষয়ে বরিশাল মৎস্য অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মোহসীন বলেছেন, ‘নদীগুলোর নাব্যতা সংকট, দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইলিশ তার চেনা গতিপথ বদলে ফেলছে। যার প্রভাব পড়েছে বরিশালের নদ-নদীতে। আমাদের জনবল সংকট রয়েছে; কিন্তু তা সত্ত্বেও ইলিশ সম্পদ রক্ষায় এবং জাটকা সংরক্ষণে مৎস্য বিভাগ মাঠ পর্যায়ে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন