প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
খুলনার পাইকগাছায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার কেনার জন্য সাধারণ ভোক্তারা বর্তমানে ভোগান্তিতে রয়েছেন। বাজারে গ্যাসের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। পরিচিত কিছু কোম্পানির সিলিন্ডার খুঁজে পেতেও ক্রেতাদের দোকান থেকে দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। কোথাও সরবরাহ না থাকায় ক্রেতাদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে, আবার কোথাও বেশি দাম দিয়েও রান্নার জন্য গ্যাস কিনতে হচ্ছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, বর্তমানে পাইকগাছার বিভিন্ন বাজারে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ চলতি অক্টোবর মাসের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। এর ফলে ক্রেতাদের প্রতি সিলিন্ডারে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪১৩ থেকে ৪৬৩ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।
স্থানীয় ক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে যমুনা, ফ্রেশ, বসুন্ধরা, ওমেরা, বিএম ও টোটালের মতো পরিচিত ব্র্যান্ডের সিলিন্ডারের সরবরাহ কম। তাদের মতে, কিছু দোকানে নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও অন্য ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পছন্দের ব্র্যান্ডের গ্যাস কেনার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।
পাইকগাছার গৃহিণী আসমা বেগম বলেন, "রান্নার জন্য গ্যাস প্রয়োজন হলেও চাহিদামতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।" তিনি আরও জানান, দু-একটি কোম্পানির সিলিন্ডার মিললেও খালি সিলিন্ডার বদলে গ্যাস নেওয়ার সুযোগ নেই। এর ফলে নতুন সিলিন্ডারসহ গ্যাস কিনতে হচ্ছে।
আসমা বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন সিলিন্ডারসহ ১২ কেজি গ্যাস কিনতে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। সংসারের অন্যান্য খরচের সঙ্গে এই বাড়তি ব্যয় সামলাতে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
স্থানীয় ভোক্তারা জানিয়েছেন, গ্যাসের সংকট ও বাড়তি দামের কারণে রান্নার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই একাধিক দোকানে খোঁজ করেও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। আবার রান্নার প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনছেন। পরিস্থিতি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ পড়বে বলে তাদের আশঙ্কা।
বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। সরবরাহের ঘাটতি, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কিংবা কৃত্রিম সংকটের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের মতে, সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোন কোম্পানির সিলিন্ডার কতটা সরবরাহ করা হচ্ছে এবং খুচরা পর্যায়ে কী দামে বিক্রি হচ্ছে, তা নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এলপিজি ডিলারদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ীদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।
তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, নির্দেশনা দেওয়ার পরও বাজারে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি এবং সরবরাহ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। ফলে সিলিন্ডার থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনের সময় গ্যাস না পাওয়া এবং বেশি দাম দিয়ে কেনার ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন