প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
খুলনার পাইকগাছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষে একটি প্রথম শ্রেণির একটি শিশু শিক্ষার্থীকে জুতা দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগটি এক শিক্ষার্থীর মায়ের বিরুদ্ধে করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৫ জুলাই বিদ্যালয় চলাকালীন এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে, ভুক্তভোগী শিশুর বাবা এবং খড়িয়া বিনাপাণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৫ জুলাই শ্রেণিকক্ষে একটি শিক্ষার্থীর খাতায় দাগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই শিশুর মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী শিশুও অপর শিশুর জামায় কলম দিয়ে দাগ দেয়। পরে ওই শিশুটি বিষয়টি তার মাকে জানায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষক ওয়াশরুমে যাওয়ার সুযোগে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর মা শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করেন এবং এরপর পায়ের জুতা খুলে ভুক্তভোগী শিশুকে মারধর করেন। এতে শিশুটি আহত হয় বলে অভিযোগ করেছে তার বাবা।
সিরাজুল ইসলামের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রত্নেশ্বর তার প্রভাব খাটিয়ে প্রতিদিন নিজের সন্তানকে প্রথম বেঞ্চে বসান। এর পাশাপাশি, তাঁর দুর্ব্যবহারে অন্য অভিভাবকেরা অতিষ্ঠ বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর সিরাজুল ইসলাম প্রথমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ সংক্রান্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এরপর গত ২২ জুলাই, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ চারজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে তদন্ত করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান লিটু এই তদন্তের সময় অভিযুক্ত নারী শিক্ষার্থীকে জুতা দিয়ে আঘাত করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্জয় দেবনাথ জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হবে। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, একজন অভিভাবকের এই ধরনের আচরণ অগ্রহণযোগ্য।
এদিকে, স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, ঘটনার পর সহকারী শিক্ষক রত্নেশ্বর বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেছেন। তবে তাঁর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হয়ে গেছে এবং এখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার ক্ষমা করবেন, না শাস্তির আওতায় আনবেন, সেটি তিনিই জানেন।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রশাসন কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন