প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সরকার আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ছানিজনিত অন্ধত্ব (ক্যাটারাক্ট ব্লাইন্ডনেস) নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, এ তথ্যটি জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ‘বাংলাদেশে উন্নত চক্ষুসেবা: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা হ্রাস এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এক স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা উল্লেখ করেন তিনি।
ড. মুহিত বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকারি, বেসরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) সমন্বয়ে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে উন্নত চক্ষুচিকিৎসাকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনাও প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে সরকারি, বেসরকারি এবং এনজিও এই তিন খাতেই চক্ষুসেবায় উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ বাস্তবায়ন হচ্ছে। তবে এখনও একটি সমন্বিত জাতীয় তথ্যব্যবস্থা ও অভিন্ন রিপোর্টিং কাঠামো গড়ে ওঠেনি। এ কারণে সরকার একটি জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে, যার আওতায় পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। চক্ষুসেবা খাতের উন্নয়ন এক দিনে সম্ভব নয়; পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ইনিয়ে আনা হবে।
তিনি জানান, কর্মপরিকল্পনার প্রথম বছরেই জেলা হাসপাতালগুলোর বিদ্যমান চক্ষুসেবার সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে। কোথায় কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সেবার মান বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়া হবে। জেলা পর্যায়ে উন্নত চক্ষুচিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণেও বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হবে।
শিশুদের দৃষ্টিস্বাস্থ্য সম্পর্কিত সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের চোখের সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করার জন্য সমন্বিত স্ক্রিনিং কর্মসূচি চালানো হবে। যেসব শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন, তাদের জন্য চশমা সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানা, অফিস ও অন্যান্য কর্মস্থলে কর্মজীবী মানুষের চোখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চশমা সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, কর্মীদের দৃষ্টিশক্তির উন্নতি উৎপাদনশীলতা বিশেষভাবে বাড়াতে সক্ষম হয়।
বয়স্ক মানুষের মধ্যে ছানিজনিত অন্ধত্ব কমানোর জন্য বড় পরিসরে ক্যাটারাক্ট সার্জারি কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও জানান ড. মুহিত। তিনি বলেন, প্রতিবছর কয়েক লাখ সফল ছানি অস্ত্রোপচার নিশ্চিত করা গেলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে ছানিজনিত অন্ধত্বমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।
চক্ষুর নতুন ধরনের রোগ মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশেষ করে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শনাক্ত ও চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিত্তিতে উন্নত স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে, এ কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রযুক্তির বদৌলতে মাঠপর্যায়ে চক্ষুসেবা প্রদান এখন অনেক সহজ হয়েছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর চক্ষুচিকিৎসা শুধু বড় শহরের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না হয়ে গ্রামের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
চক্ষুচিকিৎসা খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দক্ষ জনবলের ঘাটতির বিষয়টিও তুলে ধরেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। বর্তমানে দেশের সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু মানসম্মত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে দক্ষ চক্ষু বিশেষজ্ঞ তৈরির সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. এ.এস.এম.এম. এবং সহযোগী অধ্যাপক (অফথালমোলজি) ড. সৈয়দ মেহবুব উল কাদির। অনুষ্ঠানটিতে এআরকি ফাউন্ডেশন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধিরা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরে উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে দেশের জ্যেষ্ঠ চক্ষু বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসক এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন