প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
লোহিত সাগরে একটি তেলবাহী জাহাজ, যা সৌদি পতাকা বহন করে, সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরলেও এতে হতাহত কিংবা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার (২২ জুলাই) সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এবং যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য তদারকি সংস্থা এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার খবরে জানানো হয়েছে, সৌদি মালিকানাধীন এনসেলিয়া নামের জাহাজটি লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলের সময় হামলার কবলে পড়ে। সৌদি গণপরিবহন কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, হামলায় জাহাজটির সামনের অংশে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।
ওই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, জাহাজের সকল নাবিক নিরাপদ অবস্থানে রয়েছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জাহাজ ও সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এই অবস্থায়, যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য তদারকি সংস্থার তথ্য অনুসারে, সোমবার (২০ জুলাই) সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে সাগরে যে জাহাজটি বেরিয়েছিল, সেটি দায়িত্বহীনভাবে আল শোকাইয়ার কাছাকাছি একটি ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত হয়। এতে জাহাজে আগুন লাগলে নাবিকেরা নিজেদের সহযোগিতায় আগুনের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান।
ভ্যানগার্ড টেক, একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান, জানাচ্ছে যে, হামলাটি জাহাজটির ডান দিকে আঘাত হানে। তবে এতে কোনো হতাহত কিংবা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির অবস্থা তৈরি হয়নি।
এদিকে, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবী, সৌদি বন্দর অবরোধ অমান্য করার কারণে সৌদি মালিকানাধীন দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে।
হুথিদের দাবি, এনসেলিয়ার পাশাপাশি লায়লা নামের একটি অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজও এই হামলার লক্ষ্যবস্তু হয় এবং সেখানে আগুন লাগে। তবে এই দ্বিতীয় হামলার বিষয়টি এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
নির্মিত ২০০৭ সালে, লায়লা জাহাজটি সর্বশেষ ১৭ জুলাই স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছিল, যা এনসেলিয়ার বর্তমান অবস্থানের পশ্চিমে ছিল।
সোমবার (২০ জুলাই) হুথিরা সৌদি আরবের বন্দরে অবরোধের ঘোষণা দেয় শোনার পাশাপাশি তাদের মানবিক কার্যক্রম সমন্বয় কেন্দ্র বিভিন্ন জাহাজ কোম্পানিকে ই-মেইল পাঠিয়ে সতর্ক করে। তারা জানিয়েছে যে, সৌদি বন্দরে পণ্য ওঠানো বা নামানো কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবেনা। এবং এর ফলে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী যে কোনো স্থানেই হামলার লক্ষ্য হতে পারে।
হুথিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি হামলা এবং দুই পক্ষের দীর্ঘ ১২ বছরের সংঘাতের প্রতিশোধ হিসেবে এই অবরোধের ঘোষণাটি দেওয়া হয়েছে। এই সতর্কতার প্রেক্ষিতে ইয়ানবু বন্দর থেকে তেল বহনকারী বা সৌদির দিকে যাওয়ার কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ মাঝপথ থেকে তাদের পথ পরিবর্তন করেছে।
বিশ্লেষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট সংকটের কারণে সৌদি আরব এখন অনেক বেশি অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে ইয়ানবু বন্দরে এনে লোহিত সাগর দিয়ে রপ্তানি করছে। ইরান-সংকট শুরু হওয়ার পর এই পথে তেল পরিবহনের পরিমাণ প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজায় হামাসকে সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে হুথিরা। যার দরুণ এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে লোহিত সাগরের মাধ্যমে চলাচলকারী অনেক জাহাজকে দীর্ঘ উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরতে হচ্ছে।
বাণিজ্যিক জাহাজে হুথিদের সর্বশেষ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া হামলার ঘটনা ছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ প্রান্তে। তখন নেদারল্যান্ডসের পতাকাবাহী শুষ্ক পণ্যবাহী জাহাজ মিনার্ভাগ্রাখট হামলার সম্মুখীন হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন