প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চ্যাটজিপিটি নির্মাতারূপে পরিচিত ওপেনএআই জানিয়েছে যে, তাদের সর্বাধুনিক এবং সবচেয়ে শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলটি আগামী বৃহস্পতিবার সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এদিকে, মার্কিন সরকার এই মডেলটির ব্যাপক পরিসরে প্রকাশের অনুমোদন দিয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে।
ওপেনএআইয়ের নতুন জিপিটি-৫.৬ সিরিজ এবং অ্যানথ্রপিকের মিথোস সিরিজসহ সর্বাধুনিক এআই মডেলগুলো নিয়ে গবেষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গবেষকদের মতে, এসব মডেলের সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্ত করার বিষয়ক সক্ষমতা নজিরবিহীন হয়েছে, যা সাইবার হ্যাকারদের অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
এ কারণে, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জনিত হওয়ায় ওপেনএআই জুন মাসের শেষের দিকে জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটনের অনুরোধে তারা জিপিটি-৫.৬-এর প্রিভিউ সংস্করণ সীমিত সংখ্যক বিশ্বস্ত মার্কিন অংশীদারের জন্য উন্মুক্ত করেছে।
বৃহৎ ভাষা মডেল (লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল) হলো সেই প্রযুক্তি, যার ওপর চ্যাটবটসহ নানা এআই টুল পরিচালিত হয়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশাল পরিমাণ ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
জিপিটি-৫.৬ সিরিজে মোট তিনটি সংস্করণ রয়েছে। ‘সোল’ মডেলটি হচ্ছে কোম্পানির নতুন ফ্ল্যাগশিপ, ‘টেরা’ মডেলটি দৈনন্দিন কাজের জন্য মধ্যম ক্ষমতার এবং ‘লুনা’ হচ্ছে দ্রুতগতির ও তুলনামূলকভাবে কম খরচের সংস্করণ।
সান ফ্রান্সিসকো থেকে এএফপি জানায়, মঙ্গলবার এক্সে (সাবেক টুইটার) মাধ্যমে ওপেনএআই জানায়, ‘জিপিটি-৫.৬ সোল, টেরা ও লুনা- তিনটিই বৃহস্পতিবার সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী প্রিভিউ সুবিধাও সম্প্রসারণ করা হবে।’ তবে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে যে, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং কোম্পানির সাথে সরকারি কর্মকর্তাদের একাধিক বৈঠকের পর ট্রাম্প প্রশাসন জিপিটি-৫.৬-এর ব্যাপক উন্মুক্তকরণের অনুমতি দিয়েছে।
তবে এএফপির প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মডেলটি ব্যাপকভাবে উন্মুক্ত করার বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নয়। তিনি জানান, ওপেনএআই স্বেচ্ছায় তাদের মডেল পর্যালোচনার জন্য সরকারের কাছে জমা দিয়েছিল।
উন্নত এআই মডেল নিয়ে বিতর্কও আরো তীব্র হচ্ছে। ক্রমশ আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠা এআই মডেল বাজারে ছাড়া নিয়ে হোয়াইট হাউসের ভেতরেও মতপার্থক্য রয়েছে। একদল কর্মকর্তা এ খাতে সরকারের সীমিত হস্তক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, অন্যদিকে কিছু কর্মকর্তা জাতীয় নিরাপত্তার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ওপেনএআইয়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রপিকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। গত সপ্তাহে অ্যানথ্রপিক জানায়, ওয়াশিংটন তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ফেবল-৫ ও মিথোস-৫ মডেলের প্রকাশের বিধিনিষেধ শিথিল করেছে, তাই এগুলোর ব্যবহার ধীরে ধীরে পুনঃস্থাপন করা হবে।
মিথোস বাজারে আসার আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এআই কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে বেশি শিথিল ব্যবস্থা রেখেছিল, যাতে যুক্তরাষ্ট্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় চীনের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারে।
তবে বর্তমানে, হোয়াইট হাউসের এক নির্বাহী আদেশের আলোকে কোন ধরনের এআই মডেলের ওপর নতুন নিরাপত্তা বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি সরকারের জন্য একটি বিবেচনার বিষয়।
ওপেনএআই জুনে জানিয়েছিল, ‘আমরা মনে করি না, এ ধরনের সরকারি পর্যালোচনা প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত পদ্ধতি হওয়া উচিত। এতে ব্যবহারকারী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং যাদের এই উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন, তারা সেরা সরঞ্জাম থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে।’
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ভবিষ্যতে নতুন মডেল উন্মুক্ত করার জন্য একটি পুনরাবৃত্তিযোগ্য কাঠামো তৈরিতে তারা ওয়াশিংটনের সাথে কাজ করছে, যা সাইবার নিরাপত্তার নির্বাহী আদেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, ‘টেরা’ মডেলটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত হলে, এর ব্যবহারমূল্য জিপিটি-৫.৫-এর ওপরে অর্ধেক হবে। অ্যানথ্রপিক এবং গুগলের প্রতি তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে গ্রাহক ধরে রাখার কৌশল হিসেবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিক—উভয় প্রতিষ্ঠানই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে গোপনীয়ভাবে প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির (আইপিও) নথি জমা দিয়েছে। তারা প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়নকে সামনে রেখে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন