প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কক্সবাজারের ইনানী মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ‘টুপটুপ রিসোর্ট’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন নাসরিন জাহান মুক্তা (২৯), যিনি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার একজন স্কুলশিক্ষিকা। ১৩ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এখনও তার পরিবার তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়নি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল, যিনি ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। তারা বর্তমানে কক্সবাজারে রয়েছেন, মরদেহ চিহ্নিত করার জন্য ডিএনএ টেস্টের অপেক্ষায়।
শনিবার সকাল ৬টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ওই রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই অগ্নিকাণ্ডে মুক্তা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্য নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজধানী ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং ফায়িজান আহম্মেদ (৫) সহ আরও তিনজন।
অগ্নিকাণ্ডের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও মুক্তাকে শনাক্ত করতে পারেননি তার স্বামী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। মুক্তা বেঁচে আছেন কি না, এই অনিশ্চয়তায় তার পরিবার চরম উৎকণ্ঠা ও শোকে দিন কাটাচ্ছে।
নিখোঁজ নাসরিন জাহান মুক্তা মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া গ্রামের মোস্তফা কামালের কন্যা। তিনি ঢাকার সাভারের ‘স্বপ্ন বিলাস স্কুল’ নামের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন।
পারিবারিক ফুফাতো ভাই ইমরান হোসেনের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তা তার দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়েছিলেন। তারা পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্ট’ (TUPTUP Resto & Resort)-এ অবস্থান করেছিলেন। শনিবার সকালে তার দুই বান্ধবী সৈকতে হাঁটতে বের হলে মুক্তা রুমে ঘুমানোর কথা জানান। কিন্তু বান্ধবীরা রিসোর্ট থেকে বের হওয়ার মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন। সকাল সোয়া ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বেলা ১১টার দিকে তা সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা সম্ভব হয়।
মুক্তার আপন ফুফাতো ভাই ও মঠবাড়িয়া রুস্তম আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাজী চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "উদ্ধার হওয়া দশ মরদেহের মধ্যে আমার বোনের মরদেহ এখনও শনাক্ত করতে পারিনি। বোন জামাই বর্তমানে কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। পরিবারের সবাই চরম উদ্বিগ্ন, আমাদের এই শোক ও অনিশ্চয়তা সইবার মতো কোনো শক্তি আর অবশিষ্ট নেই। মরদেহ শনাক্ত করতে পারলে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসবো।"
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, "আমরা ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। খোঁজ-খবর নিয়ে দেখব কিছু করা যায় কিনা।"
কক্সবাজারে আনন্দভ্রমণে গিয়ে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মুক্তার নিখোঁজ হওয়ার খবরে তার নিজ এলাকা মঠবাড়িয়ায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন