প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ‘আল মোমিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন’ এর উদ্যোগে বিনামূল্যে খতনা করানোর পর ৫০ শিশু বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এর মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রোববার দ্বীপের সেন্ট মার্টিন অবকাশ নামের একটি রিসোর্টে ২১০ শিশু ও কিশোরকে খতনা করা হয়। শিশু ও কিশোরদের বয়স ৫ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ছিল। মঙ্গলবার থেকেই শিশুরা অসুস্থ হতে শুরু করে এবং তাদের মধ্যে অনেকের রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ হাসপাতালের উপ-সহকারী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ৫০ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর দুজনকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ২১০ শিশুর খতনা করা হয়েছিল। দুই দিন পর কিছু শিশু বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে যায়। শিশুদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, খতনার পর কয়েকজনের ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফুলে যাওয়া ও পুঁজ দেখা দেয়। পরে কারও কারও রক্তক্ষরণও হয়।
শিশুদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল আটটার দিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসক নওশাদ আলমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয়। দুপুরে তারা দ্বীপে পৌঁছে শিশুদের চিকিৎসা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, খতনা কর্মসূচির বিষয়ে তাদের আগে থেকে জানানো হয়নি। এ কর্মসূচির আওতায় ৫০ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। তবে মূলত দুজনের ইনফেকশন হয়েছিল। তাদেরও দ্বীপে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অন্যদের সমস্যাগুলো স্বাভাবিক ধরনের। খতনার পর এ ধরনের কিছু সমস্যা হতে পারে। এরপরও পরিস্থিতি দেখতে তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম সেন্ট মার্টিনে পাঠানো হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। মেডিকেল টিমের প্রতিবেদনে কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খতনা কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চেয়ে আল মোমিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের মুঠোফোনে কল করা হয়। তবে তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি। এ কারণে তাদের বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন