প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজারের বেশি হয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম এবং হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ১০০ জন নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এবং ৯০২ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য ও নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে একজন ঢাকা বিভাগের এবং দুজন ময়মনসিংহ বিভাগের। এই সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত রোগীর মধ্যে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১১৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৯ জনের শরীরে। ফলে হাম ও এর উপসর্গ মিলিয়ে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ১৮৮ জন।
বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৪৯৬ জন, চট্টগ্রামে ২২০ জন, সিলেটে ১৮৩ জন, বরিশালে ১৩৮ জন, খুলনায় ৫৯ জন, ময়মনসিংহে ৪১ জন, রাজশাহীতে ৩৫ জন এবং রংপুরে ১৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন হামের উপসর্গ নিয়ে।
একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৩৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৯৬৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জনের শরীরে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৯০৪ জনের। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৮৪ জনে।
এ সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ জন। চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন।
আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ বিভাগে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৭২ হাজার ৩৮ জনের এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ১৯৫ জনের শরীরে। সন্দেহজনক হামে এ বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৪০৪ জনের।
চট্টগ্রাম বিভাগ আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এখানে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৩২ হাজার ৯৩৬ জনের এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৭১১ জনের শরীরে। বরিশাল, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগেও হাম ও হামের উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে।
সন্দেহজনক হাম রোগীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে বেশি চাপ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলা এবং ঢাকা জেলায় সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি।
এদিকে হাম-রুবেলা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এ কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন। এর বিপরীতে টিকা পেয়েছেন ১ কোটি ৯৭ লাখ ৪৬ হাজার ৭৭৩ জন। ফলে জাতীয় পর্যায়ে টিকাদানের কাভারেজ ১০৯ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
বিভাগগুলোর মধ্যে টিকাদানের কাভারেজ সবচেয়ে বেশি ময়মনসিংহে, ১১৫ শতাংশ। সিলেটে সবচেয়ে কম ১০৪ দশমিক ৩ শতাংশ হলেও সেখানে টিকাদানের কাভারেজ ১০০ শতাংশের বেশি।
সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ জন। এর বিপরীতে টিকা পেয়েছেন ২০ লাখ ৬৯ হাজার ৯১১ জন। এসব এলাকায় টিকাদানের কাভারেজ ১০৮ দশমিক ৬ শতাংশ। এর মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সর্বোচ্চ ১১৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং রংপুর সিটি করপোরেশনে সর্বনিম্ন ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ কাভারেজ হয়েছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। শিশুদের মধ্যে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। চলমান সংক্রমণের মধ্যে আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর হিসাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে প্রকাশ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন