প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট মডেল কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষার উদ্দেশ্যে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, সরকার বা শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত কোনো ফি না থাকা সত্ত্বেও কলেজের কর্তৃপক্ষ নিয়মের বাইরে গিয়ে এই অর্থ আদায় করেছে।
রোববার (১২ জুলাই) ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা এ অভিযোগ করেছেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বরিশাল কর্তৃক পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এইচএসসি লিখিত পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হচ্ছে এবং ১৮ জুলাই শেষ হবে। ১৮ আগস্টের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলো ব্যবহারিক পরীক্ষার আয়োজন করবে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ হচ্ছে, এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সরকার নির্ধারিত সব ধরনের ফি পরিশোধ করার পরও আইসিটি ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য আলাদাভাবে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো বিধান নেই।
উল্লেখযোগ্য পরীক্ষার্থী মো. উজ্জ্বল বলেন, আজকে আমাদের আইসিটি শিক্ষক ইমাম হোসেন ব্যবহারিক পরীক্ষার সিট বিতরণ করার সময় প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নিয়েছেন।
টাকা নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থী সানজিদা, সাদিয়া ও রাকিবও একই অভিযোগ করেন। তারা বলেন, স্যারের কাছে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, এটি আইসিটি ব্যবহারিক পরীক্ষার টাকা। তবে, আমরা ফরম পূরণের সময়ই সব নির্ধারিত ফি দিয়েছি। তারপরেও অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা আমাদের কাছে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক মনে হচ্ছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, দুলারহাট মডেল কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ২৪২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৩০ জন।
যদি শুধু নিয়মিত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়ে থাকে, তাহলে মোট আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক প্রভাষক জানিয়েছেন, ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য শিক্ষা বোর্ড কোনো অতিরিক্ত ফি নির্ধারণ করেনি। এর পরও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণভাবে নিয়মবহির্ভূত। এতে কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়টি কলেজের মধ্যে সারা জাগানির পর অভিযুক্ত আইসিটি শিক্ষক ইমাম হোসেন কলেজ ত্যাগ করেন। পরে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি অফ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের ব্যাপারে দুলারহাট মডেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ইউছুফ আলী বলেন, আমি হিসাব দেখে বলতে পারব, আইসিটি শিক্ষক কীভাবে বা কোন প্রক্রিয়ায় টাকা নিয়েছেন।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ জানান, আমি বিষয়টির সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছি।
এদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর শরীফ মোর্শেদ রেজা বলেন, ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত ফি নেওয়ার নিয়ম নেই। বিষয়টি আমি আজই জানতে পেরেছি এবং খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন