প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে লোকালয়ে প্রবেশ করে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৯ জনকে কামড়ে আহত করা সেই শিয়ালের মাথা গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। শিয়ালটির শরীরে জলাতঙ্কের জীবাণু উপস্থিত ছিল কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কেএম ইফতেখারুল ইসলাম। তিনি জানান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে শিয়ালের মাথা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের তালুক বেলকা ও জিগাবাড়ী এলাকায় শিয়ালটি আচমকা লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এরপর এটি পথচারী ও বাড়ির আশপাশে অবস্থানরত মানুষের ওপর একের পর এক হামলা চালায়। শিয়ালের কামড়ে শিশু, নারী ও পুরুষসহ ৯ জন আহত হন।
পরে স্থানীয়রা শিয়ালটিকে ধরে মেরে একটি নির্জন স্থানে ফেলে রাখেন। খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিয়ালটির মাথা সংগ্রহ করেন। এরপর বাকি অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।
আহতদের মধ্যে তালুক বেলকা গ্রামের নিলি বেগম (৪০), সাদেক হোসেন (৭০), আফরুজা বেগম (৩৭) ও শাওন মিয়া (৬) রয়েছেন। জিগাবাড়ী গ্রামের আহতদের মধ্যে আছেন রাবেয়া বেগম (৩৮), তার ছেলে রাকিবুল হাসান (১৩), এনামুল হক (২৬), আয়শা আক্তার (৩) ও হাসান মিয়া (৭)।
শিয়ালের হামলায় আহতদের সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। পরে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের পরিদর্শন করে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহত ৯ জনকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে নিলি বেগমকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা এবং বাকি আটজনকে ৪ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, শিয়ালটিকে মেরে একটি নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হয়েছিল। পরে রাতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের লোকজন এসে সেটির মাথা কেটে নিয়ে যান। বাকি অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে।
নমুনা সংগ্রহকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মোজাম্মেল হক জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিয়ালটিকে খুঁজে বের করা হয়। পরে এর মাথা কেটে নেওয়া হয় এবং বাকি অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। এ সময় বেলকা ইউনিয়নের ভ্যাকসিনেটর, এআই টেকনিশিয়ান ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কেএম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, শিয়ালটির কাটা মাথা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। শিয়ালটির শরীরে জলাতঙ্কের জীবাণু ছিল কি না, সেটি নিশ্চিত হওয়াই এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য।
তিনি আরও জানান, শিয়ালের কামড়ে আহত ৯ জনকেই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের শারীরিক কোনো সমস্যা নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন