প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর শিক্ষার্থীরা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি পেয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্তির কাছাকাছি এসে রাকসু নেতারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি ও কাজের হিসাব তুলে ধরছেন। বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে।
দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি নিয়ে আরটিভির সঙ্গে মুখোমুখি হয়েছেন রাকসু সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আরটিভির রাবি সংবাদদাতা সায়েম চৌধুরী।
আরটিভি: রাকসু ভিপি হিসেবে আপনার দায়িত্ব কেমন চলছে?
মোস্তাকুর রহমান জাহিদ: আমি জনপ্রিয় নেতা হওয়ার জন্য নয়, বরং বড় নেতা হওয়ার উদ্দেশ্যও নেই। আমার লক্ষ্য হচ্ছে, ক্যাম্পাসে অনেক শিক্ষার্থী না খেয়ে থাকে, তাদের আবাসন সমস্যা রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই সমস্যাগুলো সমাধান না হবে, ততক্ষণ আমি শান্তি পাচ্ছি না। শিক্ষার্থীরা এসে কান্নাকাটি করে তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারলে আরও ভালো লাগতো।
আরটিভি: দায়িত্ব গ্রহণের শেষ পর্যায়ে রাকসু কতটা সফল হয়েছে?
মোস্তাকুর রহমান জাহিদ: আমরা রাকসুকে শতভাগ সফল করার চেষ্টা করছি। আমাদের ইশতেহারের ৭৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং কিছু কাজ চলমান রয়েছে। কিছু কাজ প্রশাসনের সঙ্গে জড়িত, তাই অল্প কিছু কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।
আরটিভি: রাকসু পরিচালনা করতে গিয়ে কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ মনে হয়েছে?
মোস্তাকুর রহমান জাহিদ: আমার কাছে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের অনাবাসিক ভাতা এবং আবাসন সমস্যা। এই চ্যালেঞ্জটি মোকাবেলা করতে কোটি কোটি টাকার প্রয়োজন। বাংলাদেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী বাহিরে থাকে। প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী বাইরে রয়েছে।
‘এই ২০ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয় যে, এই সমস্যাটি কীভাবে সমাধান করা যায়। হল তৈরি করাও সম্ভব নয়, কারণ হল নির্মাণে কয়েক বছর সময় লাগবে। এই কয়েক বছর কীভাবে চলবে? প্রতিমাসে যদি ভাতাও দেওয়া যায় ১ হাজার করে, তবে তাও কয়েক কোটি টাকা লাগে। সরকার কোন ফান্ড থেকে দেবে? কীভাবে দেবে, আমরা যোগাযোগ করছি। এই সমস্যাটিই সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং।’
আরটিভি: নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলোর কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে?
মোস্তাকুর রহমান জাহিদ: আমাদের কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ মিলিয়ে ১২ মাসে ২৪টি ইশতেহার দিয়েছি, যেখানে ১০৭টি কাজের কথা রয়েছে। আমাদের প্রায় ৭৩ শতাংশ কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি কাজগুলোর বেশিরভাগই চলমান রয়েছে।
‘আমরা আশা করছি, মেয়াদের মধ্যেই অনেকগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তবে কিছু কাজ রয়েছে, যেগুলো নিয়ে আমরা এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। এর মধ্যে রয়েছে অনাবাসিক ভাতা, মেডিকেল সেন্টারের সংস্কার, পূর্ণাঙ্গ টিএসসি, অনাবাসিক এলাকায় সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপন, হলগুলোতে ফ্রিজ দেওয়া, হলের মসজিদে এসি স্থাপন, কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন এবং হলগুলোতে জিমনেশিয়াম স্থাপন।’
‘হলগুলোর রিডিং রুমে এসি দেওয়া হয়েছে; তবে মসজিদগুলোতে এসি দেওয়া এখনও বাকি রয়েছে। আমরা বর্তমানে এসব বিষয় নিয়েই কাজ করছি। এর বেশিরভাগই প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। কারণ আমরা চাইলেও অনাবাসিক ভাতার জন্য সরাসরি আমাদের ফান্ড থেকে অর্থ দিতে পারি না। একইভাবে জিমনেশিয়াম স্থাপনের জন্যও অনেক টাকা প্রয়োজন, যা আমাদের মূল ফান্ড থেকে দেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলমান রয়েছে।
‘তবে যদি প্রশাসনের মাধ্যমে কোনো কারণে এগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব না হয়, তাহলে আমাদের নিজস্ব ফান্ড থেকে কিংবা স্পন্সর ম্যানেজ করে, যেভাবেই হোক এসব কাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, ইশতেহারের শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
আরটিভি: অনেক শিক্ষার্থী রাকসুর কার্যক্রমে হতাশা প্রকাশ করেছে, তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন?
মোস্তাকুর রহমান জাহিদ: শিক্ষার্থীদের বড় চাহিদাগুলোর মধ্যে অনাবাসিক ভাতা অন্যতম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী এই সমস্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। বিশেষ করে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের আমরা প্রতিনিয়ত এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে দেখছি। অনেকে বিভাগীয় ফি দিতে পারছেন না, মেসের ভাড়া দিতে পারছেন না, এমনকি খাবারের টাকাও জোগাড় করতে পারছেন না।
এই শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান করতে না পারায় তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। আমরা অনাবাসিক ভাতার বিষয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু এটি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। প্রশাসন যদি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে আসত, তাহলে আমাদের ইশতেহারের বাস্তবায়ন শতভাগের কাছাকাছি নেওয়া সম্ভব হতো এবং শিক্ষার্থীদের হতাশাও অনেকাংশে দূর করা যেত বলে আমরা মনে করি।
আরটিভি: কিছুদিন আগে রাকসু কিছু প্রতিনিধি দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাকসুকে সহযোগিতা করছে না। আপনি কি মনে করেন?
মোস্তাকুর রহমান জাহিদ: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের চরমভাবে অসহযোগিতা করেছে। প্রথমে যেমন অসহযোগিতা করেছে, এখন সেটি আরও বেড়ে গেছে। অনাবাসিক ভাতা, মেডিকেল সংস্কার এবং ডাইনিংয়ে খাদ্য ভর্তুকির ব্যাপারে প্রশাসনকে আমরা বারবার বলেছি। কিন্তু প্রশাসন এসব ব্যাপারে বারবার ‘ইগনোর পলিসি’ অবলম্বন করছে এবং বিশেষ করে অনাবাসিক ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের ভাতা দেওয়ার ব্যাপারে কোনো ভ্রুক্ষেপই করছে না।
আরটিভি: লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি থেকে কতটা মুক্ত থাকতে পেরেছে রাকসু?
মোস্তাকুর রহমান জাহিদ: আমরা রাকসুকে দলীয় লেজুড়বৃত্তি থেকে মুক্ত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আমরা ছাত্রশিবির প্যানেল থেকে নির্বাচিত হলেও আমাদের কাজগুলো দল-মত নির্বিশেষে সকলের জন্য ছিল। কোন দল, মতকে আমরা বলি নাই যে, তোমাদের আমরা এই সেবা দেবো না।
আরটিভি: কিছুদিন আগে সাংবাদিকদের জড়ো করে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, এটা নিয়ে কিছু বলবেন?
মোস্তাকুর রহমান জাহিদ: এই বিষয়টি একটু ভিন্নভাবে মিডিয়ায় এসেছে। এটি ভুল বোঝাবুঝি ছিল। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। মূলত ফ্যাসিস্ট সহযোগীদের উদ্দেশ্য সেই বক্তব্য ছিল।
আরটিভি: বিভিন্ন ব্যস্ততার মাঝে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
মোস্তাকুর রহমান জাহিদ: আপনাকেও ধন্যবাদ। আরটিভির পাঠক ও দর্শকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন