প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজশাহী, ২০ জুলাই, ২০২৬ : রাজশাহী শহর সবুজে ঘেরা হলেও শিমলা পার্কের সবুজ প্রকৃতি যেন অন্যরকম। এই পার্কটি ঘন বৃক্ষরাজি ও প্রাকৃতিক পরিবেশে সমৃদ্ধ, যা শুধুমাত্র মনোরমই নয়, বরং এটি নানা প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বার্ড ক্লাবের তথ্য অনুযায়ী, বছরজুড়ে এ এলাকায় ২০০টিরও বেশি প্রজাতির পাখির বিচরণ ঘটে। বিশেষ করে বর্ষা ও শীত মৌসুমে এখানে দেশীয় ও পরিযায়ী বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে চখাচখি, কবুতর, ঘুঘু, কুবো, আবাবিল, লালঠেঙ্গি, পানকৌড়ি, গাঙচিল, বক, কাঠঠোকরা, ফিঙে, টিয়া, মাছরাঙা, শালিক, দোয়েল, মৌটুসি, চড়ুই, খঞ্জনা, বুলবুলি, হলুদ পাখি, ডাহুক, কোকিলসহ অসংখ্য পরিচিত ও অচেনা পাখি।
এ ছাড়া এলাকাটিতে মোট ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে খরগোশ, কাঠবিড়ালি, ইঁদুর, গন্ধগোকুল, বড় গন্ধগোকুল, মেছোবাঘ, বেজি, শিয়াল এবং বিভিন্ন প্রজাতির বাদুড় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি রয়েছে ২৪ প্রজাতির সরীসৃপ, যেমন কচ্ছপ, গিরগিটি, টিকটিকি ও বিভিন্ন ধরনের সাপ এবং ১৩ প্রজাতির উভচর প্রাণীও।
এএই সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বকে বিবেচনায় নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা পরিষদের ৪১তম সভায় রাজশাহী জেলার পদ্মার চরে অবস্থিত শিমলা পার্ককে বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে ঘোষণার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
একই সভায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বারবিলা বিল এবং রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাবুডাইং পর্যটন ও পিকনিক স্পটকেও বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকার আওতায় শিমলা পার্কের বিজিবি ক্যাম্প-সংলগ্ন অংশ থেকে জেলা প্রশাসকের বাংলো-সংলগ্ন শহর রক্ষা বাঁধ পর্যন্ত প্রায় ১৭ একর এলাকা অন্তর্ভুক্ত হবে।
জীববৈচিত্র্য শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, বরং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দ্রুত সম্প্রসারণশীল রাজশাহী শহরের মধ্যে এই ধরনের একটি প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ করা গেলে তা পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি এটি গবেষণা, শিক্ষা ও প্রকৃতিভিত্তিক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।
ফলে শিমলা পার্ককে বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণা করা রাজশাহীবাসীর জন্য পরিবেশ সংরক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তবে এই সুযোগের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
সংরক্ষিত এলাকার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে দর্শনার্থীদের জন্য কিছু করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে- নীরবতা বজায় রাখা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহযোগিতা করা, বন্যপ্রাণীর চলাচলের পথে বাধা না দেওয়া, পড়াশেষে থাকা গাছ বা ডাল সংগ্রহ না করা, মে থেকে জুলাই পর্যন্ত বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুমে প্রবেশ-নিষেধাজ্ঞা মানা, পাখির বাসা নষ্ট না করা, প্রকৃতির ক্ষতি না করে উভোগ করা, নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলা, বন্যপ্রাণীর কাছে না যাওয়া এবং প্রাণী শিকার, আবাসস্থল ধ্বংস বা হয়রানির ঘটনা দেখলে প্রশাসন বা বন বিভাগকে জানানো।
অন্যদিকে, সংরক্ষিত এলাকায় মাইক বা উচ্চস্বরে গান বাজানো, দলবদ্ধ হৈচৈ বা আলোকসজ্জা করা, পলিথিন ও প্লাস্টিকসহ অপচনশীল বর্জ্য ফেলা, পিকনিক, রান্না বা আগুন জ্বালানো, পাখি ও বন্যপ্রাণী বিরক্ত বা শিকার করা, গাছ কাটা বা ডালপালা ভাঙা, স্থায়ী বা অস্থায়ী দোকান স্থাপন, গবাদিপশুর অবাধ প্রবেশ ও চারণ, অপ্রয়োজনীয় শব্দ বা আলোর ব্যবহার করা, এবং লতাগুল্ম, ঝোপঝাড় ও ভেষজ উদ্ভিদ সংগ্রহ বা ধ্বংস করা নিষিদ্ধ থাকবে।
বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা গুলোর বিরল উদ্ভিদ, প্রাণী ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গত ৮ জুলাই বিভাগীয় কমিশনার ড. এ. এন. এম. বজলুর রশীদ এর সভাপতিত্বে জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত বিশেষ জীববৈচিত্র্য এলাকা সংরক্ষণ ও উন্নয়ন বিষয়ে এক সভায় রাজশাহীর জনগণকে এই সংরক্ষিত এলাকা রক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন