প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর ধানমন্ডিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়া (ফারহান ফাইয়াজ-১৭), যিনি সবার কাছে ফারহান ফাইয়াজ নামে পরিচিত। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম কনিষ্ঠ শহীদ হিসেবে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।
আন্দোলনে তার আত্মত্যাগের স্মরণে, রাজধানীর ধানমন্ডির পুরোনো ২৭ নম্বর সড়কের নাম পরিবর্তন করে শহীদ ফারহান ফাইয়াজ সড়ক রাখা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এই সড়কের নামফলক উন্মোচন করেছে। এছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্মিত শহীদ ফারহান ফাইয়াজ খেলার মাঠও উদ্বোধন করা হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে মাঠটি চালু করা হয়েছে।
১৭ বছর বয়সী ফারহান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৫ সালে তার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি গবেষণামূলক কাজ করতে চাইতেন। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে পরে দেশে ফিরে দেশের জন্য কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন।
জানা যায় যে, ১৮ জুলাই সকালে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিতে ধানমন্ডিতে যান। বিকেলে ধানমন্ডির পুরোনো ২৭ নম্বর সড়কে রাপা প্লাজা এবং জেনেটিক প্লাজার মাঝামাঝি এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। সহপাঠীরা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই তার মৃত্যু ঘটে।
ফারহানের মৃত্যুর পর তার পরিবার গভীর শোকে ভেঙে পড়ে। তার বাবা শহিদুল ইসলাম সে সময় বলেন, ছেলেকে হারিয়ে তাদের সুখের সংসার থমকে গেছে। তার মা ফারহানা দিবা বলেন, ছেলের হত্যার বিচার চান তিনি। বোন সায়ীমা ইসলামও ভাইকে হারানোর কষ্টের কথা তুলে ধরেন।
বন্ধুদের কাছে, ফারহান ছিলেন প্রাণবন্ত, নেতৃত্বগুণসম্পন্ন এবং সবার প্রিয় একজন মানুষ। সহপাঠীরা জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, নতুন কিছু শেখা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখতেন তিনি।
ফারহান ফাইয়াজের স্বপ্ন ছিল এমন একটি জীবন গড়া, যা মানুষ মৃত্যুর পরও মনে রাখবে। মৃত্যুর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বায়োতে তিনি জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আভিচির ‘দ্য নাইটস’ গানের একটি লাইন লিখেছিলেন— একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে, তাই এমন জীবন গড়ো, যা মানুষ মনে রাখবে।
তার আত্মত্যাগের পর, অনেকেই বলেছেন, নিজের সেই কথাই যেন বাস্তবে প্রমাণ করে গেছেন ফারহান।
এদিকে, ফারহান ফাইয়াজ হত্যার ঘটনার পর তার বাবা শহিদুল ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় শেখ হাসিনাসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তৎকালীন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা এবং পুলিশ কর্মকর্তার নামও উল্লেখ করা হয়।
ফারহান ফাইয়াজের আত্মত্যাগ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয়। তার স্মৃতিতে নামকরণ করা সড়ক ও খেলার মাঠ নতুন প্রজন্মের কাছে তার অবদান তুলে ধরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন