প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে গত কয়েকদিন ধরে ভোলার উপকূলীয় জেলার আবহাওয়া বৈরী অবস্থায় ছিল। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। রবিবার (৫ জুলাই) সকাল থেকে মাঝে মধ্যে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হলে আজ বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনেকটাই কমেছে। কিন্তু আকাশ এখনও মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে এবং গুমোট পরিবেশ বিরাজ করছে।
এই পরিস্থিতিতে সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল থাকা সত্ত্বেও, ভোলার মেঘনা নদীর পানি স্বাভাবিক অবস্থানে রয়েছে। নিম্নাঞ্চলগুলোতে বৃদ্ধি পাওয়া জোয়ারের পানি কমতে শুরু করেছে, এমন তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তাগণ।
জেলার মনপুরা উপজেলার চরাঞ্চল, চরফ্যাশনের ঢাল চর, চর কুকরী-মুকরী, চর পাতিলা, কচ্ছপিয়া, ভোলা সদরের ইলিশা, রামদাসপুর, মাঝের চর, বরাইপুর, দৌলতখানের মদনপুর, এবং হাজীপুর চর নেয়ামতপুরে প্লাবিত এলাকাগুলোর পানির উচ্চতা এখন কমতে শুরু করেছে, যা স্থানীয় অধিবাসী ও জনপ্রতিনিধিগণ জানিয়েছেন।
ভোলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বাসসকে বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। এর প্রভাবে গত কয়েকদিন ভোলার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল এবং কিছু বৃষ্টিপাত হয়েছিল। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নাগাদ বৃষ্টিপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
তিনি জানিয়েছেন, গত রোববার ভোর ৬টা পর্যন্ত ভোলা জেলায় ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও বর্তমানে আবহাওয়ার উন্নতি হয়েছে, তবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র ভোলা নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বাসসকে বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে যে সব নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল, তা আজ থেকে স্বাভাবিক করা হয়েছে। ভোলার ইলিশা-লক্ষ্মীপুর-ঢাকা নৌপথে ফেরি ও যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব মৎস্য খাতেও পড়েছে। ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান গণমাধ্যমকে জানান, দুর্যোগের সার্বিক খোঁজখবর রাখতে উপজেলাব্যাপী নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। আবহাওয়া অস্বাভাবিক না হলে নদীপথ ব্যবহারকারী যাত্রী ও নৌযান সংশ্লিষ্টদের জন্য সতর্কতার নতুন বার্তা দেওয়া হবে।
তবে আজ বিকেল ৬টা নাগাদ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন