প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক গোয়েন্দা শাখা অনলাইন জুয়া চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করেছে। এ তথ্যটি বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানালেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি উল্লেখ করেন, এই অনলাইন জুয়া চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চলছে। প্রথমে গাজীপুরের একটি রিসোর্ট থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা থেকে আটক করা হয় আরও তিনজনকে। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ৬০৬টি বিকাশ-নগদ অ্যাকাউন্টযুক্ত ৬৭টি সিম কার্ড, একটি ল্যাপটপ এবং একটি মাইক্রোবাস জব্দ করে পুলিশ।
আটক হওয়া ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন: মো. আরিফুল ইসলাম রিফাত (২৩), মো. আরমান হোসেন জিহাদ (২৩), মাসুদ হোসেন (২২), আব্দুল রাব্বী, কৌশিক আহমেদ শুভ (২৩) ও মশিউর রহমান তারেক (২০)।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ডিবি অনলাইনে পরিচালিত একাধিক জুয়ার ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ শনাক্ত করেছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই জুয়ার প্ল্যাটফর্মগুলোতে ট্রান্সফার করার জন্য মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গাজীপুরের টঙ্গীর একটি রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। এরপর তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় কুমিল্লা সদরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করা হয়।
আটকদের থেকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপস পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি পেমেন্ট কোম্পানি সম্প involvement রয়েছে। উল্লেখযোগ্য পেমেন্ট কোম্পানিগুলোর মধ্যে Pay Kashma, Gopay, Lucky pay, LQ pay, XE pay, Cool pay ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ-ভিত্তিক জুয়ার সাইটে ব্যবহৃত পেমেন্ট কোম্পানিগুলোর অধিকাংশই চীনের নাগরিকদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এসব পেমেন্ট কোম্পানির বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্থানীয় লেনদেনের মাধ্যম প্রয়োজন হয়। যে কারণে তারা বাংলাদেশিদের কাছ থেকে মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করে। ব্যাংকের তুলনায় সহজলভ্যতা ও দুর্বল মনিটরিং এর সুযোগে অধিকাংশ পেমেন্ট কোম্পানি এমএফএস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে থাকে।
ডিবি পুলিশ জানায়, এই চক্রটি প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকা লেনদেন করতো এবং পরবর্তীতে এ টাকা বিভিন্ন উপায়ে বিদেশে পাচার করা হতো। অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে দেশে দৈনিক প্রায় ৮০০ কোটি টাকা লেনদেন হয় বলেও ডিবি জানায়। সংঘবদ্ধ চক্রটির বাংলাদেশ অংশের মূলহোতা আসামি আরিফুল ইসলাম রিফাত, যার অধীনেই বাকিরা উক্ত Gopay কোম্পানির হয়ে কাজ করে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বাকি সদস্যদের ধরার জন্য পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন