প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চা-বাগানের সবুজের মাঝে সকাল থেকে কর্মব্যস্ততা শুরু হয়। শ্রমিকরা কচি চা-পাতা তোলার কাজে প্রবলভাবে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কখনো প্রখর রোদে এবং কখনো মেঘলা আকাশের চাপের মধ্যে, তারা দিনকে দিন কাজ করে যেতে বাধ্য হন। তবে শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো হঠাৎ বৃষ্টি। কাজের মাঝখান থেকে বৃষ্টি শুরু হলে অনেক সময়ে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগও থাকে না। ভিজে ভিজে চা-পাতা সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যেতে হয় তাদের।
তবে সেই চিত্র বদলানোর স্বপ্ন এখন দেখছেন মৌলভীবাজারের চা শ্রমিকরা। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া রেইনকোট হাতে পেয়ে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের চা-বাগানগুলোতে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বইছে। রেইনকোট শ্রমিকদের কাছে শুধু বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার উপকরণ নয়, এটি তাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট ও দুর্ভোগের প্রতি রাষ্ট্রের নজর দেওয়ার একটি প্রতীক।
শ্রমিকদের বক্তব্য হল, রেইনকোট গায়ে দিয়ে বৃষ্টির মধ্যে কাজ করা সহজ হবে। ভিজে ঠাণ্ডা লাগা এবং কাপড় ভিজে যাওয়ার মতো নানা দুর্ভোগের ভোগান্তি কমবে। বিশেষভাবে বর্ষাকালে টানা বৃষ্টির মধ্যে কাজ করার সময় যে সমস্যা হয়, তা থেকে তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
শুধু শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জেই নয়, এই উদ্যোগের আওতায় সারা দেশের মোট ২০,০০০ চা শ্রমিকের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ করা হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ১০ জন চা শ্রমিককে রেইনকোট প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জজুড়ে অসংখ্য চা-বাগান ছড়িয়ে রয়েছে। খোলা মাঠে কাজ করেন ৪০,০০০ এরও বেশি চা শ্রমিক। চা-পাতা তোলার সময় যদি বৃষ্টি শুরু হয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হন নারী শ্রমিকরা। মাথায় চা-পাতা তোলার ঝুড়ি নিয়ে, হাতে কাঁচি, এই পরিস্থিতিতে বৃষ্টির পানি সামলে কাজ করা তাদের নিয়মিত বাস্তবতা।
মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের জীবনযাপন, সমস্যা ও প্রয়োজন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবগত রয়েছেন। বিশেষ করে চা শ্রমিকদের নানা সমস্যা ও তাদের চাওয়ার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রী জানেন। রেইনকোট প্রদান করার উদ্যোগ তারই একটি প্রতিফলন।
তিনি জানান, মঙ্গলবার তার নির্বাচনী এলাকা থেকে ১০ জন চা শ্রমিককে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের সমস্যা শোনেন এবং রেইনকোট উপহার দেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী, সরকার এবং রেইনকোট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা পরেশ কালিন্দি বলেন, সংসদ সদস্য যেমন নিয়মিত চা শ্রমিকদের খোঁজখবর রাখছেন, তেমনি প্রধানমন্ত্রীও চা শ্রমিকদের প্রতি আন্তরিক। দীর্ঘদিন পর তারা এমন একজন মানুষ পেয়েছেন, যার কাছে তারা তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা মন খুলে বলতে পারবেন।
শ্রীমঙ্গল রাজঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কানাই গোয়ালা বলেন, নির্বাচনের পূর্বে মৌলভীবাজারে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিকদের কথা বলেছিলেন। জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের পর তিনি শ্রীমঙ্গলে এসে চা শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করেছেন। এবার শ্রমিকদের জন্য বৃষ্টিতে ভেজা শ্রমিকদের জন্য রেইনকোট উপহার দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, চা শ্রমিকদের প্রতিটি সমস্যা আলাদা করে বলতে হবে না; প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাদের পাশে দাঁড়াবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে রেইনকোট পাওয়া ১০ শ্রমিকের মধ্যে রয়েছেন, শ্রীমঙ্গলের কালিঘাট চা-বাগানের শান্তি উড়িয়া, মাকড়িছড়া চা-বাগানের মুন্নী কুর্মি, ভাড়াউড়া চা-বাগানের জ্যোৎস্না আক্তার, রাজঘাট চা-বাগানের রিনা তাঁতী এবং শশিকা ব্যানার্জি, মাজদিহি চা-বাগানের সন্তুকী রায়; কমলগঞ্জের ফুলবাড়ী চা-বাগানের কবিতা কর্মকার, মাধবপুর চা-বাগানের সুজাতা বিশ্বাস, উত্তর আলীনগর চা-বাগানের রিতা রানী বাউরী এবং পাত্রখোলা চা-বাগানের আফখাতুন নাহার।
লিন্দি বলেন, আমাদের সংসদ সদস্য যেমন সবসময় আমাদের খোঁজখবর রাখেন, তেমনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চা শ্রমিকদের ভালোবাসেন। এতদিন পর তারা একজন মহৎ মানুষ পেয়েছেন, যার কাছে তারা তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা মন খুলে বলার সুযোগ পাচ্ছেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যথেষ্ট কৃতজ্ঞ।
সবুজ চা-বাগানের সারি, মাথার ওপর মেঘ এবং হঠাৎ নেমে আসা বৃষ্টি, এই পরিচিত দৃশ্যের মাঝে এবার হয়তো দেখা যাবে নতুন একটি দৃশ্য। বৃষ্টিতে ভিজে কাঁপতে কাঁপতে নয়, রেইনকোট গায়ে দিয়েই এবার চা-পাতা তুলছেন শ্রমিকরা। তাদের কাছে এই ছোট্ট পরিবর্তনই হবে বড় একটি স্বস্তির গল্প।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন