প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের হাড়িয়াকাহন গ্রামে একটি ঘটনা ঘটেছে। সেখানে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত ব্যক্তি মহব্বত আলী খাঁ হাতে নাতে ধরে নেওয়ার পরে, গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে তাকে জুতার বারি দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার খবর পাওয়া যায়।
স্থানীয় এবং ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ওই কিশোরী বাড়িতে একা ছিলেন। এই সুযোগে প্রতিবেশী মহব্বত আলী বাড়িতে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। কিশোরীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে মহব্বত আলীকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায়, স্থানীয় প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশ ডাকা হয়। সালিশে মহব্বত আলীকে ২০টি জুতার বারির শাস্তির রায় দেওয়া হয় এবং সেখানেই বিচারকার্য সম্পন্ন হয়।
এলাকাবাসীর মত, ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এমন অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে করার সুযোগ নেই। অপরাধীকে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে দ্রুত পুলিশের কাছে সোপর্দ করা উচিত ছিল বলে তারা মন্তব্য করেন।
ভুক্তভোগীর ভাবী মরিয়ম খাতুন বলেন, নাসির খানের আহ্বানে গৌড়ীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল অহাবের সভাপতিত্বে সালিশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ১নং ওয়ার্ডের জামায়াতের আমির বাবু মোল্লা, ১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আ. মালেক, ২নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আরশেদ আলম এবং খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, সালিশি বৈঠকে প্রধানরা ২০টি জুতার বারির রায় ঘোষণা করেন এবং তা কার্যকর করেন। তবে আমাদের লোকজনদের সালিশে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমরা ওই সালিশের রায় মানি না।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ষণচেষ্টার বিচারের রায় নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ওই কিশোরীর বড় ভাই এরশাদ আলী বাদী হয়ে খানায় মামলা করেন।
গৌরিগ্রাম ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের জামায়াতের আমির বাবু মোল্লা বলেন, বিচার করা হয়েছে মেম্বার ও চেয়ারম্যানের মাধ্যমে। প্রথমে ৭টা জুতার বাড়ি ও গায়ে কাদা দিয়ে এলাকাটা ঘুরানোর কথা ছিল। কিন্তু আমি বলেছি এটি না করে ২০টা জুতার বারি দেওয়া হোক। জুতার বারি দিয়ে দুই পক্ষের শেষ স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হয়েছে।
গৌড়ীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব প্রামানিক সালিশের রায়ের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সালিশে আমাকে ডেকে নেয়া হয়েছিল। সেই সালিশে রায় হয়েছে ২০টা জুতার বারি দেওয়ার। আমার পরিষদের গ্রাম পুলিশ দিয়ে জুতার বারি দেওয়া হয়। এই বিচারের ঘটনা নিয়ে সমালোচনা হলে আমি বাদীপক্ষকে আইনের আশ্রয় নিতে বলেছি।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালিশি বৈঠকের কথা তাকে দেখা গেছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে অভিযোগ পেয়েছেন এবং আজই মামলা রজু করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন