প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষার জন্য জাতীয়তাবাদী শক্তি শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশবিরোধী যেকোনো চক্রান্ত এবং আগ্রাসী শক্তির কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আয়োজনে আবরার ফাহাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ভারতকে যা দেওয়া হয়েছে, তা তারা মনে রাখবে।
তিনি বলেন, কিন্তু আবরার ফাহাদের সাহসী ও তীক্ষ্ম প্রতিবাদ ছিল নতিস্বীকারের বিরুদ্ধে তার আসল অপরাধ। তাকে হত্যার মাধ্যমে মূলত পুরো জাতিকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, টলস্টয়ের মতে, অন্যের বেদনা অনুভব করাই মানবিক অস্তিত্ব। আবরারের নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো জাতিকে কাঁদিয়েছিল এবং দেশপ্রেমিক জনগণকে জাগিয়ে তুলেছিল। সেই জাগরণের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের দেশ ছেড়ে পলায়ন।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ত্যাগের কথা স্মরণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ছাত্রদল রাজপথে বারবার রক্তাক্ত হয়েছে। তবে বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন ধারাকে ধারণ করে তারা কোনো গোপন বা ছদ্মবেশী রাজনীতির আশ্রয় নেয়নি। রাজপথে আঘাত সহ্য করেই তারা নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।
তিনি বলেন, বাংলায় একটি প্রবাদ আছে ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচগ্র মেদিনী’। আবরারের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে, দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে পুরো জাতি কীভাবে রুখে দাঁড়ায়।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এবং আবরার ফাহাদের পিতা মো. বরকত উল্লাহ।
এছাড়া আলোচনা সভায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব ইউনিটের হাজারো ছাত্রদল নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন