প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চট্টগ্রাম বিভাগের আটটি কারাগারে ১৯৮ জন বিদেশি নাগরিক বিভিন্ন অপরাধের মামলায় বন্দি রয়েছেন, যার মধ্যে মাদক পাচার ও অনলাইন প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির সংখ্যা ৩০, এবং ১৬৮ জন হাজতি হিসেবে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বন্দিদের মধ্যে মিয়ানমার, চীন, নাইজেরিয়া, লাওস, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমারের নাগরিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ মাদক মামলার আসামি।
সর্বশেষ ১০ সেপ্টেম্বর, চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার একটি বাসায় সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ নাগরিককে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ অনলাইন প্রতারণা চক্রের সদস্য। তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। চাকরির প্রলোভন ও অনলাইন মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
এর আগে, ৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার শহরের একটি হোটেল থেকে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন চীনের এবং একজন তাইওয়ানের নাগরিক। এ সময় ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
বিদেশিদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগও রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩ কেজি ৯০০ গ্রাম কোকেনসহ বাহামা দ্বীপপুঞ্জের নাগরিক স্ট্যাশিয়া শ্যান্টিয়া রোলকে আটক করা হয়। কোকেনের চালানটি একটি কম্পিউটার ইউপিএসের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
ওই চালানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ৩০ সেপ্টেম্বর দুই নাইজেরিয়ান নাগরিক আফিজ ওয়াহাব ও ইকোচুকু এনওয়াগডকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা ফুটবল খেলোয়াড় এবং দেশের বিভিন্ন ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
কারা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৩ কয়েদিসহ ৮৩ জন, কক্সবাজারে ৬১, বান্দরবানে ৪৫, ফেনী-১-এ ৩, কুমিল্লায় ২, রাঙামাটিতে ২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নোয়াখালী কারাগারে একজন করে বিদেশি বন্দি রয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে বিভাগের কারাগারগুলোতে বিদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে মিয়ানমারের বন্দিদের বেশিরভাগই মাদক মামলার আসামি।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিদেশি নাগরিকদের গ্রেপ্তারের একাধিক ঘটনায় সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলে মাদক পাচার ও আন্তর্দেশীয় অনলাইন প্রতারণার বিস্তৃতি নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন