প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজবাড়ীর আদালত কার্যালয়ে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) ‘ঘুষ’ গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনাটি নিয়ে তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই বিষয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান, রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক।
পুলিশ সূত্র থেকে জানা যায়, সোমবার ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, শীতকালের কোনো এক সময় আদালত কার্যালয়ে নিজের কক্ষে বসে থাকা এসআই ইসরাফিল হাওলাদারের কাছে এক ব্যক্তি জ্যাকেটের পকেট থেকে টাকা বের করে দিচ্ছেন। টাকা গ্রহণ করার পর এসআই ওই ব্যক্তিকে হাত দিয়ে কিছু দেখিয়ে দিচ্ছেন। পাশে থাকা আরেক ব্যক্তি পুরো ঘটনাটি দেখছিলেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদের নির্দেশে এসআই ইসরাফিল হাওলাদারকে আদালত কার্যালয় থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হককে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এসআই ইসরাফিল হাওলাদার এই অভিযোগের বিষয়ে বলেন, আমার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র চলছিল। তিনি জানান, ভিডিওতে কোন টাকা ছিল না, এটি মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে আমার কাছে দেওয়া একটি স্লিপ।
তিনি আরো বলেন, আইনজীবীদের একটি গ্রুপ আমার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে লেগে আছে। এ ছাড়া, আমাদের কোনো এক স্টাফও ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল। আমাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক বলেন, ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কারণে পুলিশের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়াসহ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি নজরে আসায় ওই দিন মাননীয় পুলিশ সুপারের নির্দেশে অভিযুক্ত এসআই ইসরাফিল হাওলাদারকে আদালত কার্যালয় থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া, তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে যাচাই–বাছাই শেষে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। আমরা ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছি। যথাসময়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন