প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কক্সবাজারের টেকনাফে প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতার পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া বন্য মা হাতিটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ২২ ঘণ্টা পর মারা গেছে।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যাংপাড়া এলাকার শিয়াল্যাঘোনা পাহাড়ের পাদদেশে হাতিটির মৃত্যু ঘটে। এরপর বন বিভাগ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে মাটিচাপার প্রস্তুতি শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুরে খাবারের সন্ধানে হাতিটি পাহাড়ি এলাকায় যায়। টানা ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু ঢাল থেকে পা পিছলে নিচে পড়ে যায়। এতে হাতিটির পেটের নিচের অংশ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
খবর পেয়ে বন বিভাগের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজারের ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক থেকে ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের একটি দল আনা হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হাতিটির চিকিৎসা করা হলেও গুরুতর অভ্যন্তরীণ আঘাতের কারণে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
হাতিটিকে দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, "বন বিভাগের লোকজন প্রাণীটিকে বাঁচাতে আন্তরিক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে শেষ পর্যন্ত সেটি মারা যায়। একটি বন্য প্রাণীর এমন হৃদয়বিদারক মৃত্যু সবাইকে ব্যথিত করেছে।"
টেকনাফ উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, শনিবার দুপুরে আহত হওয়ার পর থেকেই বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে থেকে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। ডুলাহাজরা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের এনে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছিল। কিন্তু রবিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে হাতিটি মারা যায়। বর্তমানে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে নিরাপদে মাটিচাপার কার্যক্রম চলছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, হাতিটির পেছনের দুটি পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পাশাপাশি পেটেও গুরুতর আঘাত ছিল। দুর্গম অবস্থানের কারণে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
তিনি জানান, হাতিটির মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রাণীটিকে দাফন করা হবে।
এছাড়া, আহত হাতিটির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, হাতিটির চিকিৎসা ও পরিচর্যায় কোনো ধরনের অবহেলা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন