প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মালয়েশিয়ায় জুলাই শহিদ দিবস পালিত হয়েছে। রাজধানী কুয়ালালামপুরে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবসটি পালিত হয়।
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক,political ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সূচনা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৈরি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র ‘জুলাই অনির্বাণ’ প্রদর্শন করা হয়।
এটি ছিল অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ মৌলিক মুহূর্ত যেখানে জুলাই আন্দোলনের প্রথম সারির শহিদ আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেন বাংলাদেশ থেকে টেলিফোনে যুক্ত হয়ে আবেগঘন বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে আলোচনা পর্বে অংশ নিয়ে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই শহিদ দিবস আমাদের জাতীয় জীবনে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে এবং এই বীরগণের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে থাকবে।
বর্তমান সরকার শহিদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনে সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি প্রবাসীদের বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মালয়েশিয়া প্রবাসী কমিউনিটি ও বিভিন্ন সংগঠনের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ, যাদের মধ্যে ছিলেন মাহবুব আলম শাহ, আলী হায়দার মোর্তজা, মো. জসিমউদ্দীন, সাংবাদিক মো. আমিনুল ইসলাম রতন, শামসুল আলম সিকদার হেলাল, শেখ আসাদ আহমেদ মাসুম এবং ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ এনামুল হক প্রমুখ।
আলোচকগণ তাদের বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক, সাংবাদিক ও পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের জনগণের অসামান্য ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।
শহিদ আবু সাঈদ, শহিদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ সকল শহিদের সাহসিকতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বক্তারা বলেন, এই অভূতপূর্ব গণজাগরণই ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
একটি মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান বক্তারা। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহিদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়ন করার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন