প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের কলকাতার হোটেলগুলোতে ঘটে যাওয়া এক অগ্নিকাণ্ডের পর অগ্নিনিরাপত্তা সম্পর্কিত কঠোর অভিযান শুরু করেছে রাজ্য সরকার। এই অভিযানের অংশ হিসেবে, কলকাতায় ইতোমধ্যে ১৩টি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অপারেশনের আওতায় আরও ১৬টি হোটেল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, কলকাতার ৫০টি হোটেল এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলার আরও ২৯টি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানাচ্ছে, বন্ধ হওয়া বা নোটিশ প্রাপ্ত হোটেলগুলোর অধিকাংশই মধ্য কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট এবং এসএন ব্যানার্জি রোড এলাকায় অবস্থিত। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম না মানা হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রাজ্যে দমকল বিভাগের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘মধ্য কলকাতার অন্তত ১৬টি হোটেলকে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের জন্য বন্ধ করতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে কলকাতার ৫০টিরও বেশি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’
বুধবার ভোরে, মধ্য কলকাতার শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনার তিন দিন পর এই অভিযান শুরু হয়। ঐ ঘটনায় হোটেলটির লিজধারী গ্রেপ্তার হয়েছেন। মধ্য কলকাতার ওই হোটেলের মালিক বীরেশ্বর মিত্রও কিছুদিন পালিয়ে থাকার পর গ্রেপ্তার হয়ে যান।
ভয়াবহ এই আগুনের ঘটনায় মৃত ৯ জনের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চিহ্নিত করেছেন যে, নিহত বাংলাদেশিদের ছয়জনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। আরেকজনের মরদেহ শুক্রবার কলকাতায় দাহ করা হয়েছে।
এছাড়া, গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মন্দিরশহর তারাপীঠের একটি হোটেলে আগুনে দুই শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর, তারাপীঠের ১৫টি হোটেল ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী বলেছেন, ‘ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে এবং কয়েকজন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন যে, হোটেলগুলোর পরিদর্শন চলছে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
রাজ্যের নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল মন্তব্য করেছেন, ‘১০০টি হোটেল বন্ধ করার পরেও আমরা থামব না। এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ হোটেলকে চলতে দেওয়া হবে না। আর তৃণমূল কংগ্রেসকে (টিএমসি) এর দায় নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, হোটেলগুলোর কক্ষ আকারে খুবই ছোট। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। তাহলে এই হোটেলগুলো কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স ও ফায়ার লাইসেন্স পেল, সে প্রশ্নও তিনি তুলেছেন। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছেন, ‘নিয়ম না মানলে হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
দমকল বিভাগের কর্মকর্তারা প্রমাণ করেছেন যে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলার অন্তত ২৯টি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানায় কেন তারা বন্ধ করা হবে না, সেটির জন্যও প্রশ্ন করেছে।
এক দমকল কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, কিছু হোটেল কোনো ধরনের ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আবার কিছু হোটেলের লাইসেন্স চার বা পাঁচ বছর আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও তা নবায়ন করা হয়নি।
এছাড়া অনেক হোটেলে বের হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পথ ছিল না এবং জরুরি গেট বন্ধ রাখা হতো। অনুমোদনের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছিল। কক্ষে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ছিল না এবং অনুমোদন ছাড়া ভবনের নকশাও পরিবর্তন করা হয়েছিল। এ ধরনের আরও অনেক অনিয়মও সেখানে পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন