প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা মন্তব্য করেছেন যে সাধারণ মানুষ যে বৈষম্যহীন সমাজ চেয়েছিল, গত দুই বছরে সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, যদি সবার জন্য সমান অধিকারের বাংলাদেশ তৈরি করা না যায়, তবে এই অভ্যুত্থান কেবল একদল সুবিধাভোগীর বদলে নতুন সুবিধাভোগী তৈরির আন্দোলনেই সীমাবদ্ধ থাকবে। একইসঙ্গে তিনি তার সাবেক দল বিএনপির সমালোচনা এবং ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষসহ শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার প্রসঙ্গেও খোলামেলা কথা বলেন।
বিগত গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আজ থেকে দুই বছর আগে সাধারণ মানুষের অভ্যুত্থান ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, নিপীড়নের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের বিপক্ষে ছিল এই অভ্যুত্থান। সাধারণ মানুষ একটা বৈষম্যহীন সমাজ চেয়েছিল। আমরা কি সেরকম একটা বাংলাদেশ রচনা করতে পেরেছি?’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হয়েছে। আমরা কি সবাইকে নিয়ে এরকম একটা বাংলাদেশ তৈরি করতে পেরেছি? যদি তা না করতে পারি, তাহলে কি এটি কেবলমাত্র একটি সরকারের পরিবর্তে আরেকটি সরকার? কিছু সুবিধাভোগীর পরিবর্তে নতুন কিছু সুবিধাভোগী তৈরি করার আন্দোলন ছিল? যদি তাই হয়, তবে কেন ৮ শর ওপর মানুষ জীবন দিল? কেন কয়েক হাজার মানুষ পঙ্গু হলো, চোখ হারালো, দৃষ্টিশক্তি হারালো? এটাতো হওয়ার কথা ছিল না।’
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের (২০২৪) আগে আমি রাস্তায় নেমেছিলাম। আমার বাড়ি ভাঙচুর হয়েছে, গাড়ি ভাঙা হয়েছে। হয়তো আর একটু সুযোগ পেলে আমার ওপরও হামলা হতো। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে আমার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ১০টির ওপর মামলা ছিল। যদি ৫ আগস্টে এই অভ্যুত্থান সফল না হতো, আমি হলফ করে বলতে পারি, আজকে যারা এই ঘরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি, আমরা কেউ এই জায়গায় থাকতাম না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ তৈরি করতে চেয়েছিলাম, যেখানে মেধা হবে শেষ কথা। মেধার ভিত্তিতে হবে নিয়োগ, প্রমোশন ও চাকরি। সেটা যখন আমরা দুই বছরেও তৈরি করতে পারিনি, তখন আমার আহ্বান থাকবে, আগামী দিনগুলোতে যেন কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর পরিচয়ে নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে সবার সমান অধিকারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা হয়।’
সরাইলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি বিএনপি বয়কট করেছে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে এমপি বানিয়েছে। বিএনপিকে এই কঠিন সত্য মেনে নিতে হবে।’
সাবেক এই বিএনপি নেত্রী আরও বলেন, ‘মানুষের ভোটের অধিকার যদি দল বিশ্বাস করে এবং আমরা যে গণতন্ত্রের কথা বলছি তা যদি মানতে হয়, তাহলে বলতে হয়, আপনারা তো গণতন্ত্র বিশ্বাস করেন না। মানুষের রায়ের প্রতি আপনারা শ্রদ্ধাশীল নন। তাহলে ১৭ বছর কিসের জন্য আন্দোলন করেছেন?’
সম্প্রতি ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যকার সংঘাত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি দেশের বর্তমান নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। দলগুলোর যে তাদের অঙ্গসংগঠনের প্রতি নিয়ন্ত্রণ নেই, সেটাও বোঝায়। দিনশেষে আমরা যে পুরোনো রাজনীতিতেই ফিরে গেছি, এটি তারই ইঙ্গিত।’
গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার নিয়ে বর্তমান অবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আজকাল মানুষ নির্দিষ্ট কোনো টিভি চ্যানেলের ওপর নির্ভরশীল নয়। প্রত্যেকের হাতেই গণমাধ্যম আছে। যে বা যারা তার ভাষণ শুনতে চায়, তারা শুনতে পারবে। এভাবে তো কারও প্রচার বন্ধ রাখা যায় না। শেখ হাসিনার সময় আমরা দেখেছি, তারেক রহমানের বক্তব্য আদালতের আদেশ দিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেটা যদি গণতন্ত্র না হয়, তাহলে এখনকারটা কীভাবে গণতন্ত্র হয়?’
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। দেশের রাজনীতিতে তার ও তার পরিবারের দীর্ঘদিনের অবদান আছে। তার পরিবারকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। সব কিছু বিবেচনায় এবং তার বয়সও হয়েছে; বাংলাদেশে যদি তিনি ফিরে না আসেন, উনার দলের অবস্থা কী দাঁড়াবে বা এতদিনের রাজনৈতিক ইতিহাসই বা কী দাঁড়াবে? সব কিছুর বিবেচনায় আমার সাধারণ জ্ঞান বলে তিনি ফিরে আসবেন।’
এর আগে অনুষ্ঠানে রাজধানীর গ্রিন রোডে নিহত সরাইলের সন্তান শহীদ মোবারকের পিতা রমজান আলী এবং মেরুল বাড্ডায় আহত সরাইলের বাসিন্দা মো. ইয়াছিনসহ আহত জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের হাতে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননার ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়। এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, নাগরিক পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন